চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার হাটবোয়ালিয়া বাজারে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দামে পেট্রোল বিক্রিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে গিয়ে জনরোষের মুখে এক পুলিশ সদস্য লাঞ্ছিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় মূল অভিযুক্ত তেল বিক্রেতাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় হাটবোয়ালিয়া বাজারের ‘পলাশ অটোমোবাইলস’-এর মালিক আশিকুর রহমান পান্না তার মিনি পাম্পের মাধ্যমে পেট্রোল বিক্রি শুরু করেন। অভিযোগ ওঠে, সরকার নির্ধারিত মূল্যের পরিবর্তে তিনি প্রতি লিটার ১৪৯ টাকা দরে পেট্রোল বিক্রি করছিলেন। এছাড়া তেলের তীব্র চাহিদাকে পুঁজি করে প্রতিটি মোটরসাইকেলে বাধ্যতামূলক ২০০ টাকার তেল নিতে বাধ্য করছিলেন তিনি।
অতিরিক্ত দামের খবরটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লাইভ শুরু হলে শত শত মোটরসাইকেল আরোহী সেখানে ভিড় করেন। সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় হাটবোয়ালিয়া পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা। ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টাকালে উত্তেজিত জনতার মধ্য থেকে এক যুবক এক পুলিশ সদস্যকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ওই যুবককে আটক করে। আটককৃত যুবকের নাম ইসরাফ (২৫), তিনি নগর বোয়ালিয়া গ্রামের মৃত উসমান আলীর ছেলে।
রাত ১০টার দিকে খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোস্তাফিজুর রহমান ও আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানী ইসরাইল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ বিষয়ে ওসি বানী ইসরাইল জানান, “আমরা ঘটনাস্থলে এসে ১৩০ টাকা লিটার দরে তেল বিক্রি হতে দেখেছি। তবে আমাদের কাছে ১৪৯ টাকা লিটার দরে তেল কেনা কয়েকজন ক্রেতা প্রমাণসহ লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। ভোক্তার সাথে এ ধরনের প্রতারণা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।”
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে রাত ১টার দিকে আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার ঘটনাস্থলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। এ সময় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ও জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার দায়ে অভিযুক্ত তেল বিক্রেতা আশিকুর রহমান পান্নাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
Leave a Reply