দেশের অন্যতম ব্যস্ত ও ঐতিহ্যবাহী রুট দর্শনা জয়নগর চেকপোস্টে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে যাত্রী হয়রানি ও অনৈতিক অর্থ আদায়ের পাহাড়সম অভিযোগ উঠেছে। ব্যাগ-ব্যাকেজ তল্লাশির নামে সাধারণ পাসপোর্টধারী যাত্রীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা। এতে একদিকে যেমন এই রুটের দীর্ঘদিনের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে, অন্যদিকে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন ভারত-বাংলাদেশ যাতায়াতকারী যাত্রীরা।
নিয়মানুযায়ী একজন পাসপোর্টধারী যাত্রী বছরে নির্দিষ্ট পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময়ে পরিবারের ব্যবহারের জন্য পণ্য আনতে পারেন।

কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, দর্শনা জয়নগর চেকপোস্টের কাস্টমস ইন্সপেক্টর ইমদাদুল হক সাধারণ যাত্রীদের আনা ফলমূল, সাবান, জিরা, চকলেট বা পোশাকের ব্যাগ তল্লাশির নামে উদ্দেশ্যমূলকভাবে হয়রানি করছেন। আমদানিকৃত পণ্যের বৈধতা থাকলেও নানা আইনি জটিলতার ভয় দেখিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে সুবিধা আদায় করা হচ্ছে। উপায়ন্তর না পেয়ে সাধারণ যাত্রীরা হয়রানি এড়াতে কাস্টমস কর্মকর্তাদের চাহিদামতো টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, চেকপোস্টে দালাল চক্রের মাধ্যমে প্রতিটি পাসপোর্ট বাবদ ৩০ থেকে ৪০ টাকা করে ‘উৎকোচ’ আদায় করা হচ্ছে। দালালদের বেশ কয়েকজন সদস্য জানান, প্রতিদিন সন্ধ্যায় সংগৃহীত এই টাকা কাস্টমসের সিপাহী অপূর্বর হাতে তুলে দেওয়া হয়। সিপাহী অপূর্বর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি অনেকটা দায়সারাভাবে বলেন, “আপনারাতো সবই জানেন। বর্তমানে যাত্রী সংখ্যা কম, তাই চিকিৎসা ভিসার যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয় না।” তার এই বক্তব্যেই পরোক্ষভাবে অনৈতিক অর্থ লেনদেনের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

অভিযোগের বিষয়ে কাস্টমস ইন্সপেক্টর ইমদাদুল হক বলেন, “যাত্রীদের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমরা সরকারি নিয়ম মেনে স্ক্যানিং মেশিনের মাধ্যমে ব্যাগ তল্লাশি করি। তবে দালাল চক্রের সদস্যরা দলবদ্ধভাবে কাস্টমসে প্রবেশ করে কাজে বিঘ্ন ঘটায়। সম্ভবত ওই চক্রের সাথে যাত্রীদের কোনো গোপন চুক্তি থাকে।”
করোনা পরবর্তী সময়ে এই রুটে যাত্রী সংখ্যা ফের বাড়তে শুরু করলেও কাস্টমসের এই বেপরোয়া আচরণের কারণে যাত্রীরা বিকল্প পথ খোঁজার কথা ভাবছেন। ভুক্তভোগী যাত্রী ও স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, অনতিবিলম্বে দর্শনা জয়নগর চেকপোস্টের এই অরাজকতা ও হয়রানি বন্ধ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে এই চেকপোস্টের হারানো গৌরব ও যাত্রীসেবার মান ফিরিয়ে আনার জোর দাবি উঠেছে।
Leave a Reply