জাতীয় নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক তোড়জোড়। উপজেলার ৪টি ইউনিয়ন— গড়াইটুপি, তিতুদহ, বেগমপুর ও নবগঠিত নেহালপুর নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চলছে নানা বিশ্লেষণ। বিশেষ করে চেয়ারম্যান প্রার্থীদের তৎপরতা ইউনিয়নগুলোতে নতুন করে নির্বাচনী হাওয়া বইয়ে দিচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, সাংগঠনিকভাবে সুশৃঙ্খল দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীতে প্রার্থী নিয়ে তেমন কোনো জটিলতা নেই। তারা ইতিমধ্যে ৪টি ইউনিয়নের জন্য সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছে। প্রতিটি ইউনিয়নে একক প্রার্থী থাকায় তারা অনেকটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। বিপরীতে, বিএনপি একক প্রার্থী নির্ধারণে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি। প্রতিটি ইউনিয়নেই একাধিক প্রভাবশালী নেতা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের ইচ্ছা পোষণ করে নিরব প্রচারণা চালাচ্ছেন। তৃণমূল নেতাকর্মীদের আশঙ্কা, তফসিল ঘোষণার আগে বিএনপির হাই কমান্ড একক প্রার্থী নির্ধারণে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এর চরম মাসুল দিতে হতে পারে। বিশেষ করে জামায়াতের একক প্রার্থীর বিপরীতে বিএনপির একাধিক প্রার্থী থাকলে ভোটের সমীকরণ জটিল হয়ে উঠবে।

চুয়াডাঙ্গা জেলা নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানাগেছে, গড়াইটুপি ইউনিয়নে বর্তমানে ভোটর সংখ্যা ১৮ হাজার ৪৯১ জন, তিতুদহে ১৭ হাজার ৬৭৭ জন, বেগমপুরে ১৯ হাজার ৭৭৫ জন ও নবগঠিত নেহালপুর ইউনিয়নে ভোটার সংখ্যা ১৬ হাজার ২৭৬ জন। বিএনপি’র একাধিক ভোটারের সাথে কথা বলে জানাগেছে, ৫ আগষ্ট পরবর্তী সময় ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড সুপারভাইভদের আচার আচরণের কারণে সাধারণ ভোটাররা জাতীয় নির্বাচনে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। ভোটারদের মনে ভীতি কাজ করছিলো। ভোটে বিজয়ী হলে এসব দায়িত্বরত নেতারাই তো এলাকাই নেতৃত্ব দিবে। ক্ষমতাই যাবার আগেই যে ক্ষমতা দেখিয়েছে তাতেই এলাকায় মানুষ ছিলো আতঙ্কিত। এছাড়াও ৫ আগষ্টের পরপরই সুপারফাইভ নেতৃবৃন্দ ইউনিয়নের ওয়ার্ড পর্যায়ে সরকারি টিসিবি’র কার্ড কর্তন করে যেভাবে আত্নীয় ও পারিবারিক করণ করেছে এতে করে ভোটে তার প্রভাব পড়েছে। জাতীয় নির্বাচনের মত স্থানীয় নির্বাচনেও তার প্রভাব পড়বে বলে সচেতন মহল মনে করছেন। তাই তফশীল ঘোষনার আগেই দলীয় কোন্দল নিরসন করে এক প্রার্থী নির্ধারণ করার উদ্যোগ গ্রহণ করবেন এমনটাই প্রত্যাশা দলীয় নেতাকর্মীদের।
এব্যাপারে চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপি’র সাংগাঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ মিল্টন বলেন, দলের একপ্রার্থী করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। দলের সিদ্ধান্ত যে মানবে না তার বিরুদ্ধে সাংগাঠনিক কোঠর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দল করলে দলের সিদ্ধান্ত মেনেচলাই একজন আদর্শ নেতার কর্তব্য। অপর দিকে জাতীয় নির্বাচনে কার কতটুকু ভূমিকা ছিলো তা পরিমাপ করা হয়েছে। তাই জেলা বিএনপির সর্বচ্চ নেতার নির্দেশে দলের মধ্যে স্বচ্ছতা আনতে এবং সরকারী উন্নয়মূলোক কর্মাকাণ্ডে জবাবদিহিতা করতে রাজনৈতীক ভাবে এলাকায় যাদের তুলনামূলোক গ্রহণ যোগ্যতা আছে তাদেরকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তারা দলের প্রতিনিধি হিসাবে কাজ করবে। কারা দায়িত্ব পেয়েছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গড়াইটুপি ইউনিয়নে বিএনপি নেতা আব্দুল ওহেদ, তিতুদহ ইউনিয়নে আশকার আলী, বেগমপুরে আসাবুল হক ও নবগঠিত নেহালপুর ইউনিয়নে সাবেক চেয়ারম্যান আলী হোসেন জোয়ার্দ্দারকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। আশা করি এসব ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা দলের স্বার্থে তাদেরকে সহযোগিতা করবে। এদিকে দলের একটি বিশ্বস্থসূত্রে জানাগেছে, ঈদের পরে দলের মধ্যে সুদ্ধি অভিযান শুরু হবে। যাদেরকে দিয়ে দলের ভাবমূর্তি উজ্জল হবে তাদেরকে দিয়ে দল পুনরগঠণ করা হবে। কোন বিতর্কীত ব্যাক্তিকে দলের কোন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেয়া হবে না। ৫ আগষ্ট পরবর্তী থানা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড নেতৃবৃন্দের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জেলা নেতৃবৃন্দ ওয়াকি বহাল আছেন।
Leave a Reply