চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার হাসাদহ বাজারে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে জামায়াত কর্মী হাফিজুর রহমান নিহত হওয়ার ঘটনায় পুরো জেলায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। এদিকে, খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে চুয়াডাঙ্গা সদর, আলমডাঙ্গা, দামুড়হুদা ও দর্শনায় পৃথক বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা।
শনিবার রাতে জীবননগরের হাসাদহ বাজারে পূর্ববিরোধের জের ধরে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে উভয় দলের অন্তত ছয়জন আহত হন। আহতদের মধ্যে বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মফিজুর রহমান ও তাঁর ভাই জামায়াত কর্মী হাফিজুর রহমানকে (৪৫) আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে জীবননগর এবং পরে যশোর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে ঢাকায় নেওয়ার পথে মধ্যরাতেই হাফিজুর রহমান মারা যান। মফিজুর রহমান বর্তমানে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মেহেদী হাসান, তাঁর বাবা বিএনপি কর্মী জসিম উদ্দিন এবং হাসাদহ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুস সালামকে আটক করেছে পুলিশ। জীবননগর থানা, ডিবি এবং জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিট রবি ও সোমবার পৃথক অভিযানে তাদের আটক করে।
জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ সোলায়মান জানান, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে জসিম উদ্দিন ও মো. আবদুস সালামকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে গতকাল সোমবার আদালতে পাঠানো হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে এবং মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। মামলা দায়ের হলে প্রধান আসামি মেহেদী হাসানকে গ্রেপ্তারসহ অপর দুজনকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হবে।

জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। আসামিরা যাতে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালিয়ে যেতে না পারে, সে জন্য বিজিবির সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে এবং জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে সোমবার জেলাজুড়ে কর্মসূচি পালন করেছে জামায়াতে ইসলামী।
চুয়াডাঙ্গা সদর: বিকেলে শহরের বড়বাজার শহীদ হাসান চত্বরে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা সাধারণ সম্পাদক মো. আসাদুজ্জামান, জেলা ইউনিট সদস্য আবদুর রউফ, সদর উপজেলা আমির বেলাল হোসাইন ও জেলা ছাত্রশিবির সভাপতি সাগর আহমেদ। বক্তারা ঘটনাটিকে বর্বরোচিত উল্লেখ করে খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দাবি করেন। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
আলমডাঙ্গা: বিকেলে মডেল মসজিদ চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে হাইরোড ও চারতলার মোড় প্রদক্ষিণ শেষে আব্দুল মজিদ টাওয়ারের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা জামায়াতের আমির প্রভাষক শফিউল আলম বকুলের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা যুব বিভাগের সভাপতি শেখ নূর মোহাম্মদ হুসাইন টিপু। বক্তারা দাবি করেন, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পর দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী দারুস সালাম। আরও উপস্থিত ছিলেন মাহের আলী, ইউসুফ আলী মাস্টার, মামুন রেজা, মাওলানা জুলফিকার আলী ও মুসলিম উদ্দিন।
দামুড়হুদা: বিকেলে উপজেলা শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে উপজেলা চৌরাস্তার মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। এতে নেতৃত্ব দেন উপজেলা জামায়াতের আমির নায়েব আলী ও সেক্রেটারি আবেদউদ্দৌলা টিটন। উপস্থিত ছিলেন আব্দুল খালেক, আবুল কালাম, ওবায়দুল হক, শামসুজ্জোহা, ইসমাইল হোসেন ও ঝন্টু।

দর্শনা: বিকেলে দর্শনা বাসস্ট্যান্ড থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে রেলবাজারস্থ শহিদ শাহরিয়ার শুভ মুক্তমঞ্চে সমাবেশ করে। বক্তব্য রাখেন জেলা নায়েবে আমীর মাও. আজিজুর রহমান, আব্দুল কাদের, মাও. রেজাউল করিম, মাহবুবুর রহমান টুকু, জাহিদুল ইসলাম, সাহিকুল আলম অপু, আবুজার গিফারী, মাও. শমসের আলী, আবুবক্কর সিদ্দিক, আব্দুর রহমান, গোলাম সরোয়ার, আমজাদ হোসেন, তানজির হোসাইন, আজিজুর রহমান ও আমিনুল ইসলাম প্রমুখ। বক্তারা অবিলম্বে হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারের মাধ্যমে আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানান।
এর আগে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাতে জীবননগর উপজেলার হাসাদাহ বাজার এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্বশত্রুতার জেরে বিএনপি-জামায়াতের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে নিহত হন বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতের আমীরের ভাই ও জামায়াতকর্মী হাফিজুর রহমান। আহত হন উভয়পক্ষের আরও ৫ জন।
Leave a Reply