চুয়াডাঙ্গার নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যগণের সাথে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের এক মতবিনিময় ও পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় চুয়াডাঙ্গার দুই সংসদ সদস্য জেলার উন্নয়ন ও জনসেবা নিশ্চিতে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল এবং চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমিন।
জেলা প্রশাসক জানান, সংসদ সদস্যগণ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের আইন-শৃঙ্খলা এবং উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। চুয়াডাঙ্গার সার্বিক কল্যাণে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।
চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. মাসুদ পারভেজ রাসেল তার বক্তব্যে বলেন, “আমরা কী কাজ করছি তার মূল্যায়ন হবে ৫ বছর পরে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতার ঊর্ধ্বে উঠে আমাদের কাজ করতে হবে। রাষ্ট্রের স্বার্থে এখানে সরকারি দল বা বিরোধী দলের কোনো ভেদাভেদ থাকবে না।”
তিনি সুনির্দিষ্ট কিছু সমস্যার কথা তুলে ধরে বলেন, “ভূমি রেজিস্ট্রি অফিসের অবৈধ পার্সেন্টেজ প্রথা বন্ধ করতে হবে। মাদক নিয়ন্ত্রণে কোনো আপস নেই। কৃষি প্রণোদনা যেন প্রকৃত কৃষকরাই পায় সেটি নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া বাজার মনিটরিং জোরদার এবং পরিবহন সেক্টরে চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।”
চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমিন বলেন, “আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি, তাই জনগণের হক আদায় করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। জেলা পরিষদ বা সরকারি অনুদান যেন প্রকৃত হকদাররা পায়। আমরা কোনো রাজনৈতিক কমিশন বা অনৈতিক সুবিধা চাই না।” তিনি স্বাস্থ্য খাতের মানোন্নয়নে প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, “আগামী ছয় মাসের মধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর অপারেশন থিয়েটার (ওটি) সচল করা হবে। এছাড়া বিল-বাওড় বা জলাশয়গুলো প্রকৃত মৎস্যজীবীদের ফিরিয়ে দিতে হবে এবং খাদ্য গুদামে চাল সংগ্রহের বৈষম্য দূর করতে হবে।”
অন্যান্য উপস্থিতি সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক ও রাজস্ব) নয়ন কুমার রাজবংশী, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বিএম তারিক-উজ-জামানসহ চুয়াডাঙ্গা সদর, আলমডাঙ্গা, দামুড়হুদা ও জীবননগর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা এবং জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের সহকারী কমিশনারবৃন্দ। উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার প্রশাসক শারমিন আক্তারও। সভায় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেওয়া হয়।
Leave a Reply