চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা খাঁ পাড়ায় এক তুচ্ছ ঘটনায় সংঘটিত সশস্ত্র হামলায় একই পরিবারের দুই ভাই ঢাকার দুটি হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় মেম্বার জাহিদুল ভাড়াটে বাহিনী দিয়ে এই নৃশংস হামলা চালায়। অভিযুক্তদের বিচারের দাবিতে এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। এদিকে, গণপিটুনিতে এক হামলাকারীর মৃত্যুর পর ঘটনাটি ভিন্ন মোড় নেওয়ায় পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে দামুড়হুদা খাঁ পাড়ার বাবলু খাঁর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, চুয়াডাঙ্গা থেকে মোটরসাইকেল যোগে আসা একদল হেলমেটধারী যুবক রামদা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাবলু খাঁর বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। হামলাকারীরা বাবলু খাঁর দুই ছেলে, রাজু ও সাজুকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। ঘরের মেঝেতে জমে থাকা জমাট বাঁধা রক্ত ও ভাঙা আসবাবপত্র এখনও সেই বীভৎসতার সাক্ষী দিচ্ছে।
হামলায় গুরুতর আহত দুই ভাইয়ের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। বর্তমানে একজন ঢাকার পঙ্গু হাসপাতাল-এ এবং অন্যজন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ নিউরোসায়েন্স অ্যান্ড হাসপাতাল-এর আইসিইউতে চিকিৎসাধীন।
হামলার কারণ হিসেবে জানা গেছে, একটি গরু চুরির ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জাহিদুল মেম্বারের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে মোবাইল ভাঙা এবং সেটি কিনে দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধ চরম আকার ধারণ করলে, জাহিদুল মেম্বার ক্ষিপ্ত হয়ে ভাড়াটে বাহিনী দিয়ে এই হামলা চালান বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার দিন প্রতিবেশীরা ধাওয়া করে সাজু নামের এক হামলাকারীকে ধরে গণপিটুনি দেয়। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠালে ২৩ ফেব্রুয়ারি চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পুলিশের কাছে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে সাজু জানিয়েছিল, জাহিদুল মেম্বারই তাদের ভাড়া করে এনেছিলেন।
হামলার কয়েক দিন পার হলেও মূল অভিযুক্ত জাহিদুল মেম্বার এখনো গ্রেফতার হয়নি, যার কারণে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। অভিযোগ রয়েছে, পরিবারটিকে এখনও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের নির্লিপ্ততার প্রতিবাদে এবং বিচারের দাবিতে ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী রাজপথে অবস্থান নিলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে তারা ঘরে ফিরে যান। দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মেসবাহ উদ্দিন জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ কাজ করছে এবং অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
একটি তুচ্ছ ঘটনা থেকে শুরু হওয়া এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ চুয়াডাঙ্গার অন্যতম আলোচিত ও ভীতিকর বিষয়ে পরিণত হয়েছে। বাবলু খাঁর পরিবার এখন কেবল তাদের ছেলেদের সুস্থতা নয়, বরং এই বর্বরোচিত হামলার পরিকল্পনাকারী জাহিদুল মেম্বার ও তার বাহিনীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চায়।
Leave a Reply