
স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি) টেকসই, মসৃণ ও অবিনশ্বর উত্তরণের জন্য অতিরিক্ত প্রস্তুতিমূলক সময়ের জোর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় ২৪ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) জাতিসংঘ সদর দফতরের কনফারেন্সে রুমে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. হুমায়ুন কবির এলডিসি মন্ত্রিপর্যায়ের সম্মেলনে বক্তব্যকালে এই দাবি জানান। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বিষয়টি বিবেচনার সময় তিনি এলডিসি জোটের সার্বিক সমর্থনও প্রত্যাশা করেন। সম্মেলনের শুরুতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এলডিসি চেয়ার হিসেবে নেপালের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন এবং সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর দেশটির ঘুরে দাঁড়ানোর প্রক্রিয়ায় গভীর সমবেদনা ও সংহতি প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে তিনি নতুন চেয়ার হিসেবে দ্য গাম্বিয়াকে স্বাগত জানান এবং এলডিসি ও রূপান্তরকালীন দেশগুলোর অগ্রাধিকারে অবদানের জন্য জাতিসংঘের আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল (ইউএসজি) রাবাব ফাতেমাকে ধন্যবাদ জানিয়ে তাঁর নতুন দায়িত্বের সাফল্য কামনা করেন। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর নতুন সামাজিক ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের নীতি নিয়ে বাংলাদেশ এ সম্মেলনে অংশ নিয়েছে উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ৩ আর (3R) কৌশল— রিকভারি (পুনরুদ্ধার), রেস্টোরেশন (পুনর্বাসন) এবং রিকনস্ট্রাকশন (পুনর্গঠন)—এর লক্ষ্য হলো টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি তৈরি করা।’ বিশ্বের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে তিনি বলেন, দোহা কর্মসূচি (Doha Programme of Action) গ্রহণের পর থেকে বিশ্ব অর্থনীতিতে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, মূল্যস্ফীতি, ঋণের বোঝা, সরকারি উন্নয়ন সহায়তা (ওডিএ) হ্রাস এবং জলবায়ু সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। এর ফলে এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রার নিচে রয়েছে; যা ২০২৬ সালে ৪.৬ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ৫ শতাংশ হবে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি অনলাইন বিশ্ববিদ্যালয়, খাদ্য মজুত ব্যবস্থা, টেকসই গ্র্যাজুয়েশন সাপোর্ট ফ্যাসিলিটি, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সহায়তা কেন্দ্র এবং দুর্যোগ সহনশীলতা গড়ার ব্যবস্থার দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
এলডিসি কর্মসূচির মধ্যবর্তী পর্যালোচনার (Mid-Term Review) জন্য বাংলাদেশ ৬টি প্রধান অগ্রাধিকার প্রস্তাব করেছে
১. অর্থায়ন সংকট দূরীকরণ: ওডিএ হ্রাস রোধ করা, প্রতিশ্রুতি পূরণ, সহজ শর্তে ঋণ ও উদ্ভাবনী অর্থায়ন প্রসার এবং সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) বৃদ্ধি করা। ২. বাণিজ্য সম্প্রসারণ: শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা বাড়ানো, উৎসবিধির (Rules of Origin) স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং বাণিজ্য সহজীকরণ জোরদার করা। ৩. জলবায়ু অর্থায়ন: জলবায়ু অভিযোজন এবং ক্ষয়ক্ষতির (Loss and Damage) জন্য এলডিসিগুলোর জন্য সুনির্দিষ্ট ও প্রবেশযোগ্য অর্থায়ন নিশ্চিত করা। ৪. পাচারকৃত সম্পদ উদ্ধার: অবৈধ অর্থ পাচার রোধ এবং বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধারে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করা। ৫. উৎপাদনশীলতা ও প্রযুক্তি স্থানান্তর: শিল্পায়ন, মূল্যসংযোজন, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে কাঠামোগত পরিবর্তন আনা। ৬. জাতিসংঘের সংস্কার: ‘ইউএন৮০’ (UN80) উদ্যোগ ও বহুমুখী আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার সংস্কারের মাধ্যমে এলডিসিগুলোর প্রয়োজনীয়তায় দ্রুত সাড়া দেওয়ার উপযোগী অবকাঠামো তৈরি করা। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, সম্মেলন শেষে গৃহীতব্য ‘এলডিসি মন্ত্রীপর্যায়ের ঘোষণা’ সদস্য দেশগুলোর সংকট মোকাবিলায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো সংবাদ, কলাম, তথ্য বা ছবি ব্যবহার করা কপিরাইট আইনের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে এবং এর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
Leave a Reply