1. online@cnbtvbd.com : বার্তা বিভাগ : বার্তা বিভাগ
  2. admin@cnbtvbd.com : admin :
June 28, 2026, 12:01 pm

১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ না পেয়ে প্রবাসীর ছেলেকে হত্যা, মূল আসামি গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : শনিবার, জুন ২৭, ২০২৬
  • 66 Time View

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় প্রবাসীর ১৫ বছর বয়সী ছেলে রাফিজ মিয়াকে অপহরণ করে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি এবং পরে শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি লাল্টু মিয়াকে (৪১) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রশিও উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান। এর আগে শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার নলিয়া গ্রামের জামালপুর বাজার এলাকা থেকে লাল্টু মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ জানায়, গত ৫ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আলমডাঙ্গা উপজেলার চিলাভালকী গ্রামের কিশোর রাফিজ মিয়া একটি ফোনকল পেয়ে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর সে নিখোঁজ হয়। রাত ১১টার দিকে তার দাদি আমেনা খাতুনের মোবাইল ফোনে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে কল আসে। ফোনে রাফিজের কান্নার শব্দ শোনানো হয় এবং তাকে ছাড়তে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে তাকে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়।

তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, রাফিজের বাবা দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে থাকায় পরিবারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায়ের উদ্দেশে অপহরণের পরিকল্পনা করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী কৌশলে রাফিজকে মোটরসাইকেলে করে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কুতুবপুর এলাকার অর্জুন খালের পাশে নেওয়া হয়। সেখানে তার হাত-পা বেঁধে নির্যাতন করা হয় এবং পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরে টাকা না পেয়ে ওই রাতেই গলায় রশি পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর মরদেহ অর্জুন খালে ফেলে দিয়েও তার মোবাইল ফোন ব্যবহার করে পরিবারের কাছে কয়েক দফা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা। ঘটনার আট দিন পর, ১৩ জুন কুতুবপুরের লাল ব্রিজ মাঠসংলগ্ন অর্জুন খালের পাশের একটি পুকুর থেকে রাফিজের পচাগলা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে ১০ জুন রাফিজের দাদি আমেনা খাতুন বাদী হয়ে আলমডাঙ্গা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন। হত্যাকাণ্ডের তদন্তে পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল (সিসিআইসি) ও আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের একটি যৌথ দল কাজ শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে গত শুক্রবার ভোরে রাজবাড়ী থেকে প্রধান পলাতক আসামি লাল্টু মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে লাল্টু মিয়া হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। পরে তার দেখানো মতে ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রশি উদ্ধার করা হয়। আদালতে সোপর্দ করার পর তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান বলেন, এটি একটি নৃশংস ও হৃদয়বিদারক ঘটনা। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয়ে প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য আসামিদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো সংবাদ, কলাম, তথ্য বা ছবি ব্যবহার করা কপিরাইট আইনের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে এবং এর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

Design By Raytahost