খেলার সঙ্গে রাজনীতি মেশানো উচিত নয়; এই কথা বারবার বলা হলেও, উপমহাদেশের ক্রিকেটে এটা যেন শুধু কথার কথা। এখানে ক্রিকেটই হয়ে উঠেছে রাজনীতির বড় হাতিয়ার। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)ও এর প্রভাব থেকে মুক্ত নয়।
ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক নাসের হুসেইন স্কাই ক্রিকেট পডকাস্টে খোলাখুলি বলেছেন, আইসিসির পক্ষপাতিত্বের কারণে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের ক্রিকেট বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে ভারত-পাকিস্তানের মতো বড় ম্যাচগুলোও একতরফা হয়ে যাচ্ছে। আইসিসিকে অনেকে ব্যঙ্গ করে ‘ইন্ডিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল’ বলে ডাকেন। জয় শাহ ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আইসিসির চেয়ারম্যান হওয়ার পর এই অভিযোগ আরও জোরালো হয়েছে। জয় শাহ ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর ছেলে। তার সময়ে ২০২৫ চ্যাম্পিয়নস ট্রফি পাকিস্তানে হওয়ার কথা থাকলেও, ভারতের কারণে ম্যাচগুলো দুবাইয়ে সরে যায়।
এবার ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ (ভারত ও শ্রীলঙ্কায় যৌথ আয়োজন) নিয়েও বড় জটিলতা। বাংলাদেশ দল নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ভারতে খেলতে অস্বীকার করে। তারা অনুরোধ করেছিল, তাদের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে দেওয়া হোক। কিন্তু আইসিসি সেই অনুরোধ মানেনি। ফলে বাংলাদেশ বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যায় (স্কটল্যান্ড তাদের জায়গায় খেলছে)। লিটন দাস, তানজিদ হাসান তামিম, মুস্তাফিজুর রহমানদের মতো তারকারা এখন খেলতে পারছেন না।
পাকিস্তানও বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে। পাকিস্তান সরকারের অফিসিয়াল এক্স হ্যান্ডলে জানানো হয়েছে, তারা ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোয় ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট করবে। প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ সাফ বলেছেন, এটা বাংলাদেশের সঙ্গে সংহতি দেখানো এবং খেলায় রাজনীতি না মেশানোর দাবি। নাসের হুসেইন প্রশ্ন তুলেছেন- যদি উল্টোটা হতো? যদি ভারত এক মাস আগে বলত, তাদের সরকার চায় না তারা কোনো দেশে খেলুক, তাহলে কি আইসিসি একই কঠোরতা দেখাত? নাকি ভারতকে ছাড় দিত? তিনি বলেন, ‘‘যদি ভারত কোনো টুর্নামেন্টের এক মাস আগে বলত যে তাদের সরকার চায় না তারা বিশ্বকাপের জন্য এই দেশে খেলুক, তাহলে কি আইসিসি নিজেদের সিদ্ধান্তে অটল থেকে বলতে পারত?, ‘তোমাদের তো নিয়ম জানার কথা। দুর্ভাগ্যবশত তোমাদের এই টুর্নামেন্ট থেকে আমরা বাদ দিচ্ছি?’’
Leave a Reply