আকাশ থেকে যেন আগুন ঝড়ছে সীমান্ত জেলা চুয়াডাঙ্গায়। তীব্র তাপদাহের সাথে বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে চুয়াডাঙ্গাবাসী এখন ওষ্ঠাগত। আজ ১৮ মে সোমবার জেলাটিতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে থার্মোমিটারের পারদ ৩৮ ডিগ্রি দেখালেও, বাতাসে জলীয় বাষ্পের আধিক্যের কারণে মানুষের শরীরে তা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের চেয়েও বেশি তীব্রতায় অনুভূত হচ্ছে। আজ বিকেলে চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান এই ভয়াবহ পরিস্থিতির তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, “আজ যখন চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়, ঠিক তখন বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৫৬ শতাংশ। বাতাসে জলীয় বাষ্প বা আর্দ্রতা বেশি থাকার কারণে শরীর থেকে ঘাম সহজে শুকায় না, যার ফলে প্রকৃত তাপমাত্রার চেয়ে গরমের অনুভূতি অনেক বেশি হয়। আজ চুয়াডাঙ্গাবাসী যে তীব্র গরম ও অস্বস্তি অনুভব করছেন, তা মূলত ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেছে।”
দুপুরের পর থেকেই চুয়াডাঙ্গার প্রধান প্রধান সড়ক ও বাজারগুলো প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়ছে। তীব্র রোদ আর ভ্যাপসা গরমে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া দিনমজুর, রিকশাচালক ও ভ্যানচালকরা। পেটের দায়ে চড়া রোদে বের হওয়া এই মানুষগুলো একটু শীতল পরিবেশের খোঁজে গাছের ছায়ায় আশ্রয় নিচ্ছেন। অতি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না সাধারণ নাগরিকরা।
হঠাৎ এই তীব্র গরমে হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি এড়াতে এবং সুস্থ থাকতে চিকিৎসকরা বিশেষ পরামর্শ দিয়েছেন; প্রখর রোদে একটানা কাজ করা থেকে বিরত থাকুন।বাইরে বের হলে অবশ্যই ছাতা, মাথায় ক্যাপ বা ওড়না এবং সানগ্লাস ব্যবহার করুন। শরীর হাইড্রেটেড রাখতে ঘন ঘন নিরাপদ পানি, লেবুর শরবত ও খাবার স্যালাইন পান করুন। তীব্র গরমের কারণে ডায়রিয়া বা পেটের অসুখ এড়াতে বাসি ও খোলা বাজারের খাবার পরিহার করুন। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিন এই গরমের তীব্রতা একই রকম বজায় থাকতে পারে। বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ভ্যাপসা গরমের এই চরম অস্বস্তি সহজে কমছে না।
পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো সংবাদ, কলাম, তথ্য বা ছবি ব্যবহার করা কপিরাইট আইনের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে এবং এর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
Leave a Reply