
রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় পৃথক মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে নারীসহ ৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) বিভিন্ন ইউনিট। এ সময় ট্যাপেন্টাডল, ইয়াবা ও গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি মাদক বিক্রির নগদ টাকা, একটি মোবাইল ফোন ও একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২ অক্টোবর রাত সোয়া ১২টার দিকে ডিবি পুলিশ রাজপাড়া থানার লক্ষ্মীপুর বাকীর মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. মেহেদী হাসান (২০) ও আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত এক শিশুকে (১৬) গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা চার পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। মেহেদীর বিরুদ্ধে রাজপাড়া থানায় আগের দুটি মাদক মামলা রয়েছে।
একই দিন রাত সোয়া ৯টার দিকে পবা থানা পুলিশ পিল্লাপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোহনপুর থানার চাঁদপুর (হরিরামপুর) গ্রামের মো. মোজাহার হোসেনের ছেলে মো. নুর আলম (৩৫)-কে গ্রেপ্তার করে। তার কাছ থেকে সাত পিস ইয়াবা, মাদক বিক্রির নগদ ২ হাজার ৬০০ টাকা, একটি মোবাইল ফোন ও একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।
এর আগে, ১ অক্টোবর রাত পৌনে ১১টার দিকে পবা থানা পুলিশ তেবাড়ীয়া উত্তরপাড়া গ্রামের মো. মুকুল হোসেনের ছেলে মো. মাজেদুর রহমান ওরফে মামুন (২৮)-এর বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় বাড়ি থেকে বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা ৪০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধারসহ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ছাড়া ২ অক্টোবর রাত সাড়ে ৯টার দিকে বেলপুকুর থানা পুলিশ মাহেন্দ্রা গ্রামের মো. রেন্টু আলীর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তার ছেলে মো. রনি আহম্মেদ (২৭)-কে গ্রেপ্তার করে। তার কাছ থেকে ১৭ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। রনির বিরুদ্ধে বেলপুকুর থানায় আগের একটি মাদক মামলা রয়েছে।
অন্যদিকে, একই দিন বিকেল পৌনে ৬টার দিকে কাশিয়াডাঙ্গা থানার কেশবপুর পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা পূর্ব রায়পাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তানোর থানার কুঠিপাড়া গ্রামের মৃত আবু তালেবের ছেলে মো. আক্তার হোসেন (২৮)-কে গ্রেপ্তার করেন। এ সময় তার কাছ থেকে বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা ১০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
এদিকে, ২ অক্টোবর বেলা পৌনে ১১টার দিকে পবা থানা পুলিশ এলাকাবাসীর সহযোগিতায় বড়ইকুড়ি গ্রামের বর্তমানে মদনহাটি এলাকায় বসবাসকারী মো. ফিরোজ আহম্মেদের বাড়িতে অভিযান চালায়। সেখান থেকে ফিরোজ আহম্মেদের স্ত্রী মোসা. নাহিদা সুমি (২৩) ও মো. দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী মোসা. ফেরদৌসি বিবি (৫৪)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় ফেরদৌসি বিবির কাছ থেকে বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা ২৫০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, ফেরদৌসি বিবি নাহিদা সুমির শাশুড়ি। তারা পরস্পরের সহযোগিতায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে। ফেরদৌসি বিবির বিরুদ্ধে পবা থানায় আগের একটি মাদক মামলা রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো সংবাদ, কলাম, তথ্য বা ছবি ব্যবহার করা কপিরাইট আইনের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে এবং এর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
Leave a Reply