
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার ভবানীপুর ছেফাতিয়া কামিল মাদ্রাসার গভর্নিং বডি গঠন নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি গেজেট ও ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিমালা অনুসরণ না করে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে নিয়মিত গভর্নিং বডি গঠন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগের পর সরেজমিনে পাওয়া তথ্য ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুধু নিয়মিত গভর্নিং বডি গঠন নয়, এর আগে গঠিত অ্যাডহক কমিটি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ওই অ্যাডহক কমিটির মাধ্যমে নিয়মিত গভর্নিং বডি গঠনের লক্ষ্যে নির্বাচন আয়োজন ও তফসিল ঘোষণাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, ২০২৫-২৬ সালের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি গঠনসংক্রান্ত সরকারি গেজেট ও ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিমালা কার্যকর থাকা সত্ত্বেও ২০২৩-২৪ সালের বিধিমালার আলোকে মাদ্রাসার কার্যক্রম পরিচালনা এবং নিয়মিত গভর্নিং বডি গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, বর্তমান বিধিমালা অনুযায়ী কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত না থাকলে ওই শিক্ষার্থীর পিতা-মাতা বা অভিভাবককে অভিভাবক সদস্য হিসেবে নির্বাচিত করার সুযোগ নেই। অথচ ভবানীপুর ছেফাতিয়া কামিল মাদ্রাসায় বর্তমানে কোনো ছেলে বা মেয়ে অধ্যয়নরত না থাকা সত্ত্বেও আশরাফ আলী ও মহসিন আলীকে অভিভাবক সদস্য নির্বাচিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মঞ্জুরুল ইসলামের বাবা সাবেক অধ্যক্ষ মরহুম নুর ইসলামকে দাতা ও প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, তাঁর নিকটাত্মীয় এনামুল হককে অভিভাবক সদস্য এবং খালাতো ভাই নুর মোহাম্মদকে শিক্ষক প্রতিনিধি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। একই কমিটিতে লালমনিরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার হাসান রাজীব প্রধানকে সভাপতি করা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এসব নিয়োগ ও সদস্য নির্বাচনের মাধ্যমে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যও পাওয়া গেছে।
ভবানীপুর ছেফাতিয়া কামিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মঞ্জুরুল ইসলামের সঙ্গে কথা হলে তিনি অভিযোগের কিছু বিষয় স্বীকার করেন। তবে তাঁর দাবি, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি মেনেই নিয়মিত গভর্নিং বডি গঠন করা হয়েছে।
নির্বাচনের প্রিজাইডিং অফিসার ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার শহিদুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, অধ্যক্ষের প্রস্তুত করা ভোটার তালিকা এবং অ্যাডহক কমিটির সভাপতি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাসেল মিয়ার দেওয়া নির্বাচন তফসিল অনুযায়ী আশরাফ আলী ও মহসিন আলী অভিভাবক সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
মাদ্রাসায় বর্তমানে কোনো শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত আছে কি না—এ বিষয়ে জানতে চাইলে শহিদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি প্রিজাইডিং অফিসারের দেখার বিষয় নয়। ভোটার তালিকা সম্পর্কে অ্যাডহক কমিটির সভাপতি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাসেল মিয়া জানেন বলেও তিনি জানান।
অন্যদিকে অ্যাডহক কমিটির সভাপতি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাসেল মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের সুপারিশক্রমে নিয়মিত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে গঠিত কমিটির বৈধতার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনই বলতে পারবে বলে জানান তিনি।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বিধিমালা ও কমিটি গঠনের নথিপত্র যাচাই করা হলে গভর্নিং বডি গঠনের প্রক্রিয়াটি বিধিসম্মত ছিল কি না, তা আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো সংবাদ, কলাম, তথ্য বা ছবি ব্যবহার করা কপিরাইট আইনের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে এবং এর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
Leave a Reply