প্রিন্ট এর তারিখঃ অগাস্ট ১৪, ২০২৬, ৬:৩৩ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুলাই ৯, ২০২৬, ৩:১২ পূর্বাহ্ণ
চুয়াডাঙ্গায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঢুকে প্রধান শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ

চুয়াডাঙ্গায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঢুকে এক নারী প্রধান শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক অভিভাবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী শিক্ষক বিদ্যালয়ে যেতে নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়েছেন। ইতোমধ্যে এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। গতকাল বুধবার দুপুরে চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের ফার্মপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। লাঞ্ছনার শিকার ওই শিক্ষকের নাম কাবেরী করিম। তিনি বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুর ১২টা ২০ মিনিটের দিকে বিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী ফার্মপাড়া এলাকার বাসিন্দা সামসউর রহমান শুভ বিদ্যালয়ে প্রবেশ করেন। এ সময় তিনি অসৌজন্যমূলক আচরণ করতে থাকেন। একপর্যায়ে অফিসকক্ষে বসে থাকা প্রধান শিক্ষক কাবেরী করিমকে আচমকা চড়-থাপ্পড় মারেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে উপস্থিত কয়েকজন তাকে থামিয়ে বাইরে নিয়ে যান। বিদ্যালয় সূত্র আরও জানায়, সামসউর রহমান শুভ ও মিতালী খাতুন দম্পতির মেয়ে বিসমাহ জান্নাত ঐশ্বর্য (৯) ওই বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। বিদ্যালয়ের সমাবেশ চলাকালে এক সহপাঠীর সঙ্গে কথা বলার কারণে তাকে শাসন করেন প্রধান শিক্ষক। এ সময় শিশুটির গালে একটি চড় দেন তিনি। বিষয়টি জানার পর ক্ষুব্ধ হয়ে শিশুটির বাবা বিদ্যালয়ে এসে প্রধান শিক্ষককে চড় মারেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চুয়াডাঙ্গা ফার্ম পাড়ার অবসর প্রাপ্ত শিক্ষক আব্দুর রহমানের ছেলে অভিযুক্ত শামসউর রহমান শুভ বলেন, আমি বাড়ি যাবার পথে মেয়েকে কান্না করতে দেখি। জিজ্ঞাসা করলে বলে স্কুলের প্রধান শিক্ষক আমাকে মেরেছে। এ সময় রাগে পড়ে স্কুলে গিয়ে প্রধান শিক্ষককে চড় মেরেছি আমি অনুতপ্ত। লাঞ্ছনার শিকার প্রধান শিক্ষক কাবেরী করিম বলেন, আমি একজন শিক্ষক হয়ে শিক্ষার্থীদের যেমন আদর করি, তেমনি প্রয়োজনে একটু শাসনও করতে হয়। এ কারণেই আলতো করে একটা চড় মেরেছিলাম। কিন্তু এজন্য একজন অভিভাবক আমার অফিসে ঢুকে আমার গায়ে হাত তুলবেন, এটা আমার ধারণা ছিল না। এ অবস্থায় বিদ্যালয়ে যেতে আমি নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করছি। আবারও আমার ওপর হামলা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছি। ঘটনার নিন্দা জানিয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও চুয়াডাঙ্গা কেদারগঞ্জ আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সোয়াইব হোসেন বলেন, এ ধরনের আচরণ আমরা কোনো অভিভাবকের কাছ থেকে আশা করি না। এমন পরিস্থিতি হলে আমরা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মানুষ করব কীভাবে। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং লাঞ্ছনার শিকার শিক্ষকের পাশে থেকে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে চাই। শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, অভিযোগ পেয়ে বিদ্যালয়ে পুলিশের একটি দল পাঠানো হয়েছিলো। পরে জানা যায়, প্রধান শিক্ষককেও লাঞ্ছিত করেছেন ওই শিক্ষার্থীর অভিভাবক। স্কুলের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার অহীন্দ্র কুমার মন্ডল বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। ঘটনা সত্য হলে এটি সত্যিই অনাকাক্সিক্ষত একটি ঘটনা। অফিসিয়ালি অভিযোগ পেলে নিয়ম অনুযায়ী অভিভাবকের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। এদিকে মারধরের সিসিটিভির ফুটেজ ছড়িয়ে পড়লে বিদ্যালয়ের ভেতরে একজন শিক্ষকের সঙ্গে এমন ঘটনার পর শিক্ষক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ডিজিটাল বাংলার প্রতিচ্ছবি
Copyright © 2026 CNB TV. All rights reserved.