চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসকের (ডিসি) ভুয়া বড় ভাই সেজে সরকারি নিলামের কাজ পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভনে লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার সময় এক প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে হাতেনাতে আটক করেছে জনতা। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে আলমডাঙ্গা পৌরসভার পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে দ্বিতীয় কিস্তির ৫০ হাজার টাকা গ্রহণের সময় স্থানীয়রা তাদের ধরে পুলিশে সোপর্দ করেন। তবে এ সময় চক্রের আরও দুই সদস্য কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
ভুক্তভোগী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী রাসেল আলী চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার মুসলিমপাড়ার বাসিন্দা এবং পেশায় পুরাতন ঘরবাড়ি ক্রয়-বিক্রয়ের ব্যবসায়ী। ব্যবসার সূত্রে আলমডাঙ্গার হেলাল নামের এক ব্যক্তির সাথে তার পরিচয় হয়। হেলাল তাকে সরকারি নিলামের কাজ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে কুষ্টিয়ার হরিনারায়ণপুর এলাকার জাহিদুল ইসলাম ডাবলুর সাথে পরিচয় করিয়ে দেন। ডাবলু নিজেকে চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসকের আপন বড় ভাই পরিচয় দিয়ে সরকারি বড় বড় কাজ পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
অভিযোগ রয়েছে, নিজেকে আড়ালে রাখতে ডাবলু সরাসরি টাকা গ্রহণ করতেন না। তিনি তার সহযোগী মিরপুর উপজেলার কুর্শা গ্রামের তফসের আলী ও কালু মণ্ডলের মাধ্যমে টাকা সংগ্রহ করতেন। ডাবলুর কথায় বিশ্বাস করে প্রথম দফায় রাসেল আলী নগদ ৫০ হাজার টাকা এবং পরবর্তীতে বিকাশের মাধ্যমে আরও ৬ হাজার টাকা প্রদান করেন।
ভুক্তভোগী রাসেল আলী জানান, গত বুধবার তাকে সারাদিন চুয়াডাঙ্গায় বসিয়ে রেখে প্রতারকরা জানায়—'ডিসি স্যারের ভাই' এসে কাজের বিষয়ে চূড়ান্ত কথা বলবেন। কিন্তু দীর্ঘ অপেক্ষার পরও কেউ আসেনি। উল্টো তারা আরও ৫০ হাজার টাকা দাবি করে বসে এবং জানায়, এই টাকা না দিলে কাজ হবে না। বৃহস্পতিবার সকালে আবারও রাসেলকে ফোন করে টাকা প্রস্তুত রাখতে বলা হয়। এতে রাসেল আলীর সন্দেহ হলে তিনি বিষয়টি তার পরিচিত কয়েকজনকে জানান। বৃহস্পতিবার বিকেলে আলমডাঙ্গা পৌরসভার পাশে টাকা লেনদেনের সময় পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী স্থানীয়রা সেখানে উপস্থিত হন। অভিযুক্তদের কথাবার্তায় ব্যাপক অসঙ্গতি ধরা পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হয়। এরপর স্থানীয়রা জাহিদুল ইসলাম ডাবলু ও কালু মণ্ডলকে গণধোলাই এড়াতে আটকে রেখে আলমডাঙ্গা থানায় সোপর্দ করেন। এ সময় সুচতুর হেলাল ও তফসের আলী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
খবর পেয়ে সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল শামীম আলমডাঙ্গা থানায় গিয়ে ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত করেন। ঘটনাস্থল ও ভুক্তভোগীর বাড়ি চুয়াডাঙ্গা সদর থানা এলাকার অধীনে হওয়ায় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আটক দুই আসামিকে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় স্থানান্তর করা হয়।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আটককৃত দুই প্রতারক বর্তমানে থানা হেফাজতে রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। চক্রের পলাতক বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে এ ঘটনার পর চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে একটি বিশেষ সতর্ক বার্তা জারি করা হয়েছে। সেখানে সাধারণ মানুষকে এ ধরনের ভুয়া পরিচয়ধারী প্রতারক চক্রের হাত থেকে সাবধান থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং যেকোনো সরকারি কাজের ক্ষেত্রে সরাসরি দপ্তরে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ডিজিটাল বাংলার প্রতিচ্ছবি
Copyright © 2026 OnlineTV. All rights reserved.