প্রিন্ট এর তারিখঃ মে ২৫, ২০২৬, ১০:৫৮ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ মে ৮, ২০২৬, ৩:০৪ অপরাহ্ণ
ধান কাটা নিয়ে দিশেহারা দামুড়হুদার কৃষকরা, এক মণ ধানেও মিলছে না শ্রমিক
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন হলেও কৃষকের মুখে হাসি নেই। মাঠভরা পাকা ধান ঘরে তোলা নিয়ে চরম শ্রমিক সংকটে পড়েছেন তারা। একদিকে টানা এক সপ্তাহের বৈরী আবহাওয়া, অন্যদিকে সব মাঠের ধান একসাথে পেকে যাওয়ায় শ্রমিকের চাহিদা কয়েক গুণ বেড়েছে। বর্তমানে এক মণ ধানের দাম দিয়েও মিলছে না একজন শ্রমিক, যা নিয়ে বড় ধরনের লোকসানের শঙ্কায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। উপজেলার সীমান্তবর্তী কার্পাসডাঙ্গায় প্রতিদিন ভোরে বসে শ্রমিকের হাট। সরেজমিনে দেখা গেছে, সেখানে শ্রমিকের চেয়ে ক্রেতা বা কৃষকের ভিড়ই বেশি। এক জন শ্রমিক পেতে কৃষকদের রীতিমতো প্রতিযোগিতায় নামতে হচ্ছে। বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ ধান এক হাজার থেকে এক হাজার ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি দিতে হচ্ছে এক হাজার ১০০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকা। অর্থাৎ, এক মণ ধান বিক্রি করেও একজন শ্রমিকের মজুরি পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। উপজেলার কুতুবপুর গ্রামের কৃষক ইজামুদ্দিন জানান তার করুণ অভিজ্ঞতার কথা। তিনি বলেন, ‘দুই বিঘা জমির ধান পেকে মাঠে পড়ে ছিল। শ্রমিকের অভাবে কাটতে পারছিলাম না। অবশেষে কার্পাসডাঙ্গা হাট থেকে এক হাজার ২০০ টাকা মজুরিতে ৮ জন শ্রমিক নিয়ে ধান কাটিয়েছি। কিন্তু রাতে বৃষ্টিতে কাটা ধান ভিজে এখন নষ্ট হওয়ার পথে। শুকানো ও মাড়াইয়ের জন্য আবারও বাড়তি শ্রমিক লাগবে।’ ইজামুদ্দিনের হিসাব অনুযায়ী, দুই বিঘা জমির ধান রোপণ থেকে ঘরে তোলা পর্যন্ত মোট খরচ দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৬০ হাজার টাকা। বিপরীতে ধান উৎপাদন হবে ৪০ থেকে ৪২ মণ, যার বর্তমান বাজারমূল্য সর্বোচ্চ ৪৪ হাজার টাকা। ফলে দুই বিঘা জমিতেই তার প্রায় ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। একই আশঙ্কার কথা জানালেন গোলডাঙ্গা গ্রামের কৃষক রোকনুজ্জামান রোকন। তিনি বলেন, ‘আগে যে শ্রমিকের মজুরি ছিল ৪০০-৫০০ টাকা, এখন তা বেড়ে দ্বিগুণ ছাড়িয়েছে। ধান কাটতে যে খরচ হচ্ছে, তাতে আমাদের মতো সাধারণ চাষিদের পথে বসার উপক্রম হয়েছে।’ এ বিষয়ে দামুড়হুদা উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা অভিজিৎ কুমার বিশ্বাস জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৮ হাজার ৭৬৭ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। ফলনও বেশ ভালো হয়েছে। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে সবাই একসাথে ধান কাটতে শুরু করায় শ্রমিকের ওপর চাপ বেড়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কৃষকদের দ্রুত ধান কাটার পরামর্শ দিচ্ছি। পাশাপাশি শ্রমিকের ওপর নির্ভরতা কমাতে কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন ব্যবহারের জন্য উৎসাহিত করছি। এতে অল্প সময়ে ও কম খরচে কৃষকরা তাদের ফসল ঘরে তুলতে পারবেন।’ মাঠে পাকা ধান থাকলেও শ্রমিক ও প্রকৃতির প্রতিকূলতার মাঝে এখন লোকসান এড়ানোই দামুড়হুদার কৃষকদের প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।