ইরান প্রস্তাবিত শর্ত মেনে নিলে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ইরান রাজি না হলে বোমা হামলা আরও তীব্র হতে পারে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। বুধবার নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘যা নিয়ে সমঝোতা হয়েছে, ইরান যদি তা দেয়– তাহলে অপারেশন এপিক ফিউরি শেষ হয়ে যাবে’। তিনি বলেন, শর্ত মেনে নিলে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যে মার্কিন অবরোধ চলছে, সেটি তখন তুলে নেওয়া হবে এবং ইরানসহ সবার জন্য হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত থাকবে। একই সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে আরও বলেন, ‘ইরান চুক্তিতে রাজি না হলে আবারও বোমা হামলা শুরু হবে এবং দুঃখজনকভাবে সেটি মাত্রা ও তীব্রতা আগের চেয়ে অনেক বেশি হবে’। এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, যুদ্ধ বন্ধে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের একটি সূত্র জানিয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলের যুদ্ধ অবসানে এক পৃষ্ঠার একটি খসড়া চুক্তিতে পৌঁছানোর দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে দুই দেশ। পাকিস্তানি সূত্রের বরাত দিয়ে অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, সম্ভাব্য এই চুক্তিতে মোট ১৪টি পয়েন্ট রয়েছে। সমঝোতা প্রক্রিয়াটি এগিয়ে নিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা ও জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার।
এই স্মারকের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে ইরান যুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণা করা হবে। পাশাপাশি এতে উল্লেখ থাকবে যে, পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করা, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে চূড়ান্ত আলোচনা হবে। এছাড়া, ইরানের অবরুদ্ধ কয়েক বিলিয়ন ডলার অর্থ ফেরত দেবে যুক্তরাষ্ট্র এবং পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত রাখবে। উভয় পক্ষই হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর থেকে সব ধরনের বিধিনিষেধ তুলে নেবে। যদিও এ বিষয়ে দুই দেশ এখনো চূড়ান্তভাবে সম্মতি জানায়নি। কিন্তু যুদ্ধ শুরুর পর বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে দুই পক্ষ এখন পর্যন্ত যতটা একমত হয়েছে, বর্তমানে এটি সবচেয়ে নিকটতম অবস্থানে রয়েছে। অর্থাৎ তাদের মধ্যে মতানৈক্য অনেকটাই কমেছে। তবে সমঝোতা স্মারকে যেসব শর্ত আছে সেগুলো বাস্তবায়নের বিষয়টি একটি চূড়ান্ত চুক্তির ওপর নির্ভরশীল থাকবে। এরফলে যুদ্ধ আবার নতুন করে শুরু হতে পারে। অথবা বর্তমান পরিস্থিতি আরও গভীর হতে পারে। অর্থাৎ ব্যাপক হামলা আর পাল্টা হামলা হয়ত হবে না, কিন্তু কোনো সমাধানও হবে না। মার্কিন কর্মকর্তারা সন্দেহ প্রকাশ করে বলেছেন, ইরানি নেতৃবৃন্দ অনেকটাই বিভক্ত। ফলে তাদের একমত হওয়ার বিষয়টি কঠিন হবে।
সূত্র: বিবিসি, রয়টার্স
ডিজিটাল বাংলার প্রতিচ্ছবি
Copyright © 2026 OnlineTV. All rights reserved.