চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় আদালত থেকে স্বপদে ফেরার অনুমতি পেয়ে পরিষদে বসাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ও সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে। আজ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার খাদিমপুর, নাগদাহ ও কালিদাসপুর ইউনিয়ন পরিষদে এসব ঘটনা ঘটে। এসময় খাদিমপুর ইউপি চেয়ারম্যানকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয় এবং বেশ কিছু মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৫ আগস্টের পর অপসারিত চেয়ারম্যান মোজাহিদুর রহমান জোয়ার্দ্দার লোটাস উচ্চ আদালতের রিট পিটিশনের মাধ্যমে অনুমতি পেয়ে আজ সকালে দাপ্তরিক কাজ শুরু করেন। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা (যাদের মধ্যে বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতি দেখা যায়) পরিষদ ঘেরাও করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। একপর্যায়ে হামলাকারীরা চেয়ারম্যানের কক্ষে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং তাকে অবরুদ্ধ করে রাখে। খবর পেয়ে চেয়ারম্যানের সমর্থকরা পাল্টা ধাওয়া দিলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। এসময় ফেলে যাওয়া ৪টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। চেয়ারম্যান লোটাস অভিযোগ করেন, তাকে লক্ষ্য করে দেশীয় অস্ত্র ও ইট-পাটকেল ব্যবহার করা হয়েছে, যার প্রমাণ সিসিটিভি ফুটেজে রয়েছে। একই সময়ে উপজেলার নাগদাহ ইউপি চেয়ারম্যান এজাজ ইমতিয়াজ বিপুল ও কালিদাসপুর ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আশাদুল হক মিকাকে তাদের নিজ নিজ পরিষদ থেকে ধাওয়া দিয়ে বের করে দেয় স্থানীয়রা। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং জসিম নামে একজনকে হেফাজতে নেয়।
ভুক্তভোগী চেয়ারম্যান লোটাস অভিযোগ করেন, ‘আদালতের অনুমতি নিয়ে আমি অফিস করছিলাম। হঠাৎ কিছু লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাকে ঘেরাও করে ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকে। তারা সিসিটিভি ক্যামেরার সামনেই তাণ্ডব চালিয়েছে। পরে গ্রামবাসী এসে আমাকে উদ্ধার করে।’ একই সময়ে উপজেলার নাগদাহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এজাজ ইমতিয়াজ বিপুল এবং কালিদাসপুর ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আশাদুল হক মিকাকে ধাওয়া দিয়ে পরিষদ থেকে বের করে দেয় স্থানীয়রা।
চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ঘটনার খবর পেয়েই পুলিশ প্রতিটি ইউনিয়নে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে। খাদিমপুরের ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। বর্তমানে পরিবেশ শান্ত রয়েছে এবং পুলিশি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ৫ আগস্টের পর জেলা প্রশাসন এসব ইউনিয়নে প্রশাসক নিয়োগ দিলেও আলমডাঙ্গার ৪ চেয়ারম্যান মোজাহিদুর রহমান জোয়ার্দ্দার লোটাস (খাদিমপুর), হাসানুজ্জামান সরোয়ার (চিৎলা), তাসফির আহমেদ লাল (খাসকররা) ও তরিকুল ইসলাম (ডাউকি) উচ্চ আদালতে রিট করে পরিষদে ফেরার অনুমতি পান। তবে তাদের ফেরার প্রথম দিনেই এই বড় ধরনের সংঘাতের ঘটনা ঘটলো।
Leave a Reply