1. bennett_il6zyh@gmail.com : bennett :
  2. bot@local.invalid : Service Bot :
  3. newioszu_at9x0b@protonmail.com : newioszu :
  4. online@cnbtvbd.com : বার্তা বিভাগ : বার্তা বিভাগ
  5. cnbtvbdar@outlook.com : vulohiwl :
  6. admin@cnbtvbd.com : admin :
সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ১১:২০ পূর্বাহ্ন

চাঁদে অভিযানের সময় ক্যামেরায় ধরা পৃথিবীর অপার সৌন্দর্য

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৪৩ বার পঠিত

মহাকাশ থেকে পৃথিবীর হাই-রেজল্যুশন ছবি পাঠিয়েছেন চাঁদের উদ্দেশে যাত্রা করা আর্টেমিস-২ মিশনের নভোচারীরা।  মিশনের কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান এই নয়নাভিরাম ছবিগুলো তুলেছেন বলে জানিয়েছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা।  চাঁদের পথে যাত্রার শেষ ধাপে মহাকাশযানের ইঞ্জিন সফলভাবে প্রজ্বলনের (ইঞ্জিন বার্ন) পর এই দৃশ্যগুলো ক্যামেরাবন্দি করা হয়। বিবিসির প্রতিবেদনে জানা যায়, নাসা প্রথম ছবিটির নাম দিয়েছে ‘হ্যালো ওয়ার্ল্ড’। এতে দেখা যাচ্ছে নীল জলরাশির আটলান্টিক মহাসাগর। পৃথিবীর ওপর সূর্যের আলো ঢাকা পড়ায় বায়ুমণ্ডলের একটি পাতলা উজ্জ্বল রেখা ফুটে উঠেছে। একই সঙ্গে পৃথিবীর দুই মেরুতে দেখা যাচ্ছে সবুজ রঙের মেরুজ্যোতি (অরোরা)।

ছবিটিতে পৃথিবীকে কিছুটা উল্টো অবস্থানে দেখা যাচ্ছে। বাম দিকে পশ্চিম সাহারা মরুভূমি ও আইবেরীয় উপদ্বীপ এবং ডান দিকে দক্ষিণ আমেরিকার পূর্বাংশ দৃশ্যমান। ছবির নিচের দিকে ডান পাশে উজ্জ্বল একটি গ্রহ শনাক্ত করেছে নাসা, যা মূলত শুক্র গ্রহ। শুক্রবার ভোরে ‘ট্রান্স-লুনার ইনজেকশন বার্ন’ সফলভাবে সম্পন্ন করার পর ছবিগুলো তোলা হয়। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ওরিয়ন মহাকাশযানটি পৃথিবীর কক্ষপথ ছেড়ে চাঁদের দিকে রওনা হয়। বর্তমানে চার নভোচারী পৃথিবী থেকে ২ লাখ মাইল দূরে চাঁদের পথে রয়েছেন।

আর্টেমিস-২ মিশনটি এখন একটি লুপ আকৃতির পথে এগোচ্ছে, যা নভোচারীদের চাঁদের অপর প্রান্তে ঘুরিয়ে নিয়ে আবার পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনবে। ১৯৭২ সালের পর এই প্রথম কোনো মানুষ পৃথিবীর কক্ষপথ ছাড়িয়ে এত দূরে পাড়ি জমাল।

সব ঠিক থাকলে ৬ এপ্রিল নভোচারীরা চাঁদের দূরবর্তী অংশ (ফার সাইড) অতিক্রম করবেন এবং ১০ এপ্রিল পৃথিবীতে ফিরে আসবেন।

৫৩ বছর পর চাঁদের পথে মানুষ, সফলভাবে শুরু ‘আর্টেমিস-২’ মিশন৫৩ বছর পর চাঁদের পথে মানুষ, সফলভাবে শুরু ‘আর্টেমিস-২’ মিশন

মিশন স্পেশালিস্ট জেরেমি হ্যানসেন হিউস্টনের মিশন কন্ট্রোলকে জানান, ইঞ্জিন বার্ন সম্পন্ন হওয়ার পর নভোচারীরা যেন জানালার সঙ্গে ‘লেগে ছিলেন’ এবং একের পর এক ছবি তুলছিলেন। তিনি বলছিলেন, ‘আমরা পৃথিবীর অন্ধকার দিকের একটি চমৎকার দৃশ্য দেখতে পাচ্ছি, যা চাঁদের আলোয় আলোকিত।’

পরে অভিযানের কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান হিউস্টনের মিশন কন্ট্রোলে যোগাযোগ করে জানতে চান, জানালাগুলো কীভাবে পরিষ্কার করা যায়। মহাকাশ দেখার আগ্রহে নভোচারীরা এত বেশি সময় জানালার কাছে ছিলেন যে সেগুলো ময়লা হয়ে গিয়েছিল।

শুরুতে মহাকাশযান থেকে পৃথিবীর ছবি তুলতে কিছুটা সমস্যায় পড়েন কমান্ডার। তিনি জানান, এত দূর থেকে ছবি তুলতে গিয়ে এক্সপোজার সেটিং ঠিক করা কঠিন হয়ে পড়ছিল। ওয়াইজম্যান মিশন কন্ট্রোলকে বলেন, ‘এটা ঠিক যেন আপনি বাড়ির পেছনে গিয়ে চাঁদের ছবি তুলতে চেষ্টা করছেন। এখন ঠিক তেমনটাই মনে হচ্ছে।’

মহাকাশ থেকে তোলা অন্য একটি ছবিতে পৃথিবীর দিন ও রাতের স্পষ্ট বিভাজন ধরা পড়েছে। আলো ও অন্ধকারের এই মিলনরেখাটি ‘টার্মিনেটর’ নামে পরিচিত। পরবর্তীতে নাসা আরও একটি ছবি প্রকাশ করে যেখানে ঘুটঘুটে অন্ধকারে পৃথিবীর বুকে মানুষের জ্বালানো বৈদ্যুতিক আলোর ঝিলিক দেখা যাচ্ছে।

নাসা ২০২৬ সালের এই ছবির সঙ্গে ১৯৭২ সালে অ্যাপোলো-১৭ মিশনের তোলা পৃথিবীর একটি ছবি প্রকাশ করে দুটির তুলনা করেছে। অ্যাপোলো-১৭ ছিল চাঁদের বুকে মানুষের শেষ পদযাত্রা।

নাসা তাদের বার্তায় লিখেছে, গত ৫৪ বছরে আমরা অনেক দূর এগিয়েছি, কিন্তু একটি জিনিস বদলায়নি: মহাকাশ থেকে আমাদের ঘরকে (পৃথিবী) এখনো অপূর্ব দেখায়!

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর
All rights reserved © 2026
Design By Raytahost