চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মোমিনপুরে ট্রেনে কাটা পড়ে রমজান আলী (৭০) নামে এক বৃদ্ধ ইমামের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে মোমিনপুর কবরস্থানের সামনের রেললাইনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত রমজান আলী আলমডাঙ্গা উপজেলার বেতবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি পেশায় একজন কৃষক হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় একটি মসজিদে ইমামতি করতেন।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও রেলওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে রমজান আলী তাঁর কৃষিকাজের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। তিনি রেললাইনের পাশ দিয়ে হেঁটে নিজের ফসলি জমিতে যাচ্ছিলেন। এসময় রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা খুলনাগামী আন্তঃনগর ‘সাগরদাড়ি এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি মোমিনপুর এলাকা অতিক্রম করছিল। বার্ধক্যজনিত কারণে শ্রবণশক্তি কমে যাওয়া অথবা অসাবধানতাবশত তিনি ট্রেনের উপস্থিতি টের পাননি বলে ধারণা করা হচ্ছে। ট্রেনটি যখন দ্রুতগতিতে আসছিল, তখন তিনি রেললাইন পার হওয়ার চেষ্টা করেন। মুহূর্তের মধ্যেই ট্রেনের নিচে পড়ে তাঁর দেহ ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই তিনি প্রাণ হারান।
নিহত রমজান আলীর পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তিনি দীর্ঘকাল ধরে মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি নিজের কৃষিজমি দেখাশোনা করতেন। প্রতিদিনের মতো আজ সকালেও তিনি লাঙ্গল-জোয়াল বা কৃষিকাজের সরঞ্জাম নিয়ে মাঠে যাচ্ছিলেন। তাঁর এই আকস্মিক ও বীভৎস মৃত্যুতে পরিবারে শোকের মাতম চলছে। এলাকার মানুষ একজন সজ্জন ও ধর্মপ্রাণ মানুষকে হারিয়ে স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন।
খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) জগদীশ চন্দ্র বসু দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, রমজান আলী রেললাইন দিয়ে হেঁটে জমিতে যাওয়ার সময় অসাবধানতাবশত সাগরদাড়ি এক্সপ্রেসের নিচে পড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় এবং তাদের বিশেষ অনুরোধে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন পয়েন্টে রেললাইনের পাশ দিয়ে হাঁটা বা যত্রতত্র রেললাইন পার হওয়া নিত্যদিনের চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ এবং হেডফোন ব্যবহারকারী তরুণরা প্রায়শই এই ধরণের দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। মোমিনপুর এলাকার বাসিন্দারা জানান, এই পয়েন্টটিতে প্রায়ই গবাদিপশু ও মানুষ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের প্রচার-প্রচারণা থাকলেও সাধারণ মানুষের সচেতনতার অভাবে মৃত্যুর মিছিল থামছে না।
রমজান আলীর মতো একজন প্রবীণ ও সম্মানিত মানুষের এমন মৃত্যু কেবল একটি পরিবারের ক্ষতি নয়, বরং সমাজের জন্য একটি সতর্কবার্তা। রেললাইন পারাপারের সময় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন না করলে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত বিয়োগান্তক ঘটনা এড়ানো অসম্ভব। মরহুমের জানাজা আজ বিকেলে তাঁর নিজ গ্রাম বেতবাড়িয়ায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তাঁর মৃত্যুতে চুয়াডাঙ্গা ও আলমডাঙ্গার আলেম সমাজ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
Leave a Reply