চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে নিজের আট বছরের অবুঝ সন্তানকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবির এক চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছে। প্রবাসে থাকা মায়ের কাছে সন্তানের গলায় ধারালো অস্ত্র ধরা ছবি পাঠিয়ে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন পাষণ্ড পিতা ও তার সহযোগী। তবে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে ঘটনার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শিশু সিয়ামকে (৮) অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ঘাতক পিতাসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিশু সিয়ামের মা শাবানা খাতুন প্রবাসে থাকার সুবাদে। সে জীবননগরে ঘুগরাগাছি গ্রামে তার নানির কাছে থাকতো। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সিয়ামের পিতা মো. আজিজুল (২৮) কৌশলে নানা বাড়ি থেকে নিজের সন্তানকে অপহরণ করে। আজিজুল সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার মোড়াকাটি গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে। অপহরণের পর সে তার এক সহযোগীকে সাথে নিয়ে শিশুটিকে একটি নির্জন বাগানে নিয়ে হাত-পা বেঁধে ফেলে। এরপর শিশুটির গলায় ধারালো হাসুয়া ধরে ছবি তুলে ভারতে অবস্থানরত তার মায়ের কাছে পাঠায়। মুক্তিপণ হিসেবে ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয় এবং টাকা না দিলে শিশুটিকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়।
এ ঘটনায় শিশু সিয়ামের খালু শহর আলী জীবননগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগ পেয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান তাৎক্ষনিক জীবননগর থানা, জেলা ডিবি ও সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলকে (সিসিআইসি) দ্রুত উদ্ধারের নির্দেশ দেন। তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় অবস্থান শনাক্ত করে রাত সাড়ে ৯টার দিকে জীবননগর উপজেলার পাকা দাসপাড়া এলাকায় ঝটিকা অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানে নেতৃত্ব দেন পুলিশ পরিদর্শক শামসুদ্দোহা, এসআই আশরাফুল ইসলাম, এসআই আশিকুর রহমান, এএসআই রজিবুল ইসলাম, এএসআই রমেন সরকার ও এএসআই আরিফুল ইসলাম। পুলিশের এই চৌকস দলটি ঘটনাস্থল থেকে অপহৃত সিয়ামকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে। একই সাথে গ্রেফতার করা হয় পাষণ্ড পিতা মো. আজিজুল এবং তার সহযোগী জীবননগর দক্ষিণপাড়ার মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে মো. আক্তারকে (২৬)।
পুলিশ জানায়, অপহরণকারীরা সিয়ামের মায়ের কাছ থেকে জিম্মি অবস্থায় বিকাশের মাধ্যমে ১০ হাজার ৩০০ টাকা হাতিয়ে নিয়েছিলো। অভিযানকালে উদ্ধারকৃত শিশুর পাশাপাশি নগদ ৭ হাজার টাকা এবং অপরাধে ব্যবহৃত সেই ধারালো হাসুয়াটি জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামীরা মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে এই ঘৃণ্য অপরাধের কথা স্বীকার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা প্রক্রীয়াধীন রয়েছে। জেলা পুলিশ অপরাধ দমনে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বদা কঠোর অবস্থানে থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান বলেন, শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে শিশুটিক উদ্ধার করা হয়েছে। এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে তারা সর্বদা কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
Leave a Reply