পবিত্র মাহে রমজানে ইফতার সামগ্রীতে পোকাযুক্ত বেগুন ব্যবহার এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ মেয়াদোত্তীর্ণ ইনসুলিন সংরক্ষণের দায়ে চুয়াডাঙ্গায় তিন প্রতিষ্ঠানকে ২২ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত জেলা শহরের কোর্ট মোড় ও বড় বাজার এলাকায় পরিচালিত অভিযানে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়। অভিযানে ইফতারির জনপ্রিয় পদ ‘বেগুনি’ তৈরিতে পোকাযুক্ত ও পচা বেগুনের ব্যবহার দেখে খোদ কর্মকর্তারাও বিস্ময় প্রকাশ করেন। জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসানের নেতৃত্বে এই তদারকিমূলক অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে ‘ভোজন বিলাস’ নামক রেস্তোরাঁয় ইফতারের বেগুনি তৈরিতে পোকাযুক্ত পচা বেগুন ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির মালিক এ এম এম আরিফকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সময়ে ‘রনক ড্রাগ হাউজ’ নামক ফার্মেসিতে অভিযান চালিয়ে ফ্রিজে জীবনরক্ষাকারী ওষুধ মেয়াদোত্তীর্ণ ইনসুলিন সংরক্ষণের দায়ে মালিক মো. রফিকুল আলমকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া খাদ্যে নিষিদ্ধ ও অস্বাস্থ্যকর উপাদান মিশ্রণের অপরাধে ‘মেসার্স জমজম হোটেল’-এর মালিক মো. রশিদুল হককে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযানকালে শুধু হোটেল বা রেস্তোরাঁ নয়, রমজান উপলক্ষে গ্যাসের দোকান ও ফলের দোকানগুলোতেও নিবিড় তদারকি চালানো হয়। ব্যবসায়ীদের মানসম্মত পণ্য বিক্রি এবং কোনো অবস্থাতেই মেয়াদোত্তীর্ণ বা নিম্নমানের পণ্য গুদামজাত না করার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত ত্রুটি সংশোধন করে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে ব্যবসা পরিচালনার নির্দেশনা দেয়া হয়। সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান বলেন, ‘পবিত্র রমজানে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা আমাদের অগ্রাধিকার। ইফতারির মতো স্পর্শকাতর খাবারে পোকাযুক্ত সবজি ব্যবহার এবং ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ইনসুলিন রাখা চরম অপরাধ। জনস্বার্থে এই ধরনের ঝটিকা অভিযান মাসব্যাপী অব্যাহত থাকবে।’ অভিযানে জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা সজীব পাল, সদর পৌরসভার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর নার্গিস জাহান, ক্যাব প্রতিনিধি মো. রফিকুল ইসলাম এবং জেলা পুলিশের একটি চৌকস টিম সার্বিক সহযোগিতা করেন।
Leave a Reply