ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলি লারিজানি মার্কিন সংবাদমাধ্যমের সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন, যেখানে বলা হয়েছিল তিনি ওয়াশিংটনের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনা পুনরায় শুরুর জন্য নতুন করে উদ্যোগ নিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, “আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনায় বসব না।”
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল দাবি করেছিল যে, খামেনি নিহত হওয়ার পর লারিজানি ওমানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এই প্রতিবেদনের পরই লারিজানির পক্ষ থেকে এমন কড়া বিবৃতি এলো।
এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং নিরাপত্তা পরিষদের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
চিঠিতে আরাকচি খামেনির হত্যাকাণ্ডকে একটি “কাপুরুষোচিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড” হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি একে “বিপজ্জনক ও নজিরবিহীন উসকানি” বলে বর্ণনা করেছেন, যা “রাষ্ট্রীয় মর্যাদা এবং জাতিসমূহের মধ্যে সভ্য আচরণের সবচেয়ে মৌলিক নীতিগুলোতে আঘাত হেনেছে।”
তিনি বলেন, “এ ধরনের আচরণ কেবল আন্তর্জাতিক আইনের প্রতিষ্ঠিত নীতিগুলোকেই লঙ্ঘন করে না; বরং এটি বেপরোয়াভাবে একটি বিপজ্জনক পরিস্থিতি বা ‘প্যান্ডোরার বাক্স’ খুলে দেয়, যা সার্বভৌম সমতার ভিত্তি এবং আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার স্থিতিশীলতাকে ক্ষুণ্ন করে।”
আরাকচি আরও বলেন, ইরান “জাতিসংঘের মহাসচিব এবং নিরাপত্তা পরিষদের কাছে তাদের সনদ অনুযায়ী আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব পালনের জন্য গম্ভীরভাবে আহ্বান জানাচ্ছে। একই সঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠীর এই জঘন্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পূর্ণ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে, সুনির্দিষ্ট এবং কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছে।”
Leave a Reply