চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় নির্মাণাধীন সরকারি সড়কের ক্ষতিসাধন করে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনের দায়ে ৪ জনকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। রোববার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে গোপালপুর-ইব্রাহীমপুর এলাকায় এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। সরকারি অবকাঠামো রক্ষা এবং জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রশাসন এই কঠোর অবস্থানে নেমেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
দীর্ঘদিন ধরেই দামুড়হুদার গোপালপুর-ইব্রাহীমপুর সড়কের পাশের মাটি কেটে একটি অসাধু চক্র বিক্রি করে আসছিল। নির্মাণাধীন সড়কের পাশ থেকে এভাবে মাটি কাটার ফলে রাস্তাটি ধসে পড়ার ঝুঁকিতে পড়েছিল এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজ ব্যাহত হচ্ছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের উদ্বেগের প্রেক্ষিতে প্রশাসন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গভীর রাতে অভিযানে নামে।

দামুড়হুদা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহীন আলম এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। ‘বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ (২০২৩ সংশোধিত)’ অনুযায়ী অপরাধীদের দোষী সাব্যস্ত করে প্রত্যেককে এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—নতিপোতা গ্রামের আছের উদ্দিনের ছেলে সজিবুল, মৃত আকবার আলীর ছেলে খাইরুল ইসলাম; কুলবিলা গুচ্ছগ্রামের ছমির উদ্দিনের ছেলে সোহেল রানা এবং মাগুরা গ্রামের নওশের আলীর ছেলে আবুল কাশেম।
অভিযানকালে মাটি পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত ৩টি অবৈধ ট্রাক্টর জব্দ করা হয়। অভিযানের বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহীন আলম বলেন, ‘সরকারি সম্পদ এবং জনগণের ট্যাক্সের টাকায় নির্মিত উন্নয়ন প্রকল্প ধ্বংস করার অধিকার কারও নেই। স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছি। জনস্বার্থ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং আইন অমান্যকারীদের প্রতি কোনো ছাড় দেয়া হবে না।’ প্রশাসনের এমন সময়োচিত পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তারা মনে করছেন, সরকারি সম্পদ রক্ষায় প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থান সড়ক ও জনপদ বিভাগের উন্নয়ন কাজকে নির্বিঘ্ন করবে।
Leave a Reply