বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) চুয়াডাঙ্গা বীজ উৎপাদন খামারে লেবার সরদার আশরাফুলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে আন্দোলন করেছেন শ্রমিকরা।
রোববার সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত নুরনগর কলোনি খামার কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
শ্রমিকদের অভিযোগ, লেবার সরদার তাদের নিয়মিত কাজ দেন না তিনি বিএনপি থেকে লেবার সরদার হয়েছেন তাই অফিস কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বজায় রেখে এককভাবে সিদ্ধান্ত নেন। তারা দাবি করেন, কোনো দলের সরদার নয়—শ্রমিকদের মধ্য থেকেই একজনকে সরদার নিয়োগ দিতে হবে, যাতে তিনি শ্রমিকদের দুঃখ-কষ্ট বুঝতে পারেন।
আন্দোলনে অংশ নেওয়া শ্রমিক মহিবুল ইসলাম বলেন, “আমি প্রায় ২৫ বছর ধরে এখানে কাজ করছি। আমরা কেউ হঠাৎ করে এসে বসিনি। কিন্তু আমাদের নিয়মিত কাজ দেওয়া হয় না,
আরেক শ্রমিক রশিদুল ইসলাম বলেন, “কাজের ভয় দেখিয়ে আমাদের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যেতে চাপ দেওয়া হয়। না গেলে বলে কাজ বন্ধ করে দেবে। আমরা গরিব মানুষ, কাজ করে সংসার চালাই। আমাদের দিয়ে রাজনীতি করানো ঠিক না। আমরা শুধু ন্যায্য মজুরি আর সম্মানের সঙ্গে কাজ করতে চাই।”
নারী শ্রমিকরাও অভিযোগ করেন, আগে হাজিরা ছিল ২৫০ টাকা, যা বর্তমানে বাড়িয়ে ৩৫০ টাকা করা হয়েছে। তবে তাদের দাবি, প্রকৃত হাজিরা ৭০০ টাকা হওয়ার কথা থাকলেও তারা পাচ্ছেন মাত্র সাড়ে তিনশ টাকা। বাকি অর্থ কোথায় যাচ্ছে—এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

অভিযুক্ত লেবার সরদার আশরাফুল এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। কয়েকজন জামায়াত সমর্থক এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে।” তিনি আরও জানান, দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে তিনি এখানে কাজ করছেন এবং সরদার হওয়া তার অধিকার। তার দাবি, আগে শ্রমিকরা মাসে ৮-১০ দিন কাজ পেতেন, আর তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর মাসে ১৮-২০ দিন কাজ পাচ্ছেন।
খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে বীজ উৎপাদন খামারের সিনিয়র সহকারী পরিচালক মো. মাইনুল ইসলাম শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং সরদার পদটি মৌখিকভাবে সাময়িক বন্ধের ঘোষণা দেন। শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া বিবেচনার আশ্বাস দিলে তারা কর্মস্থলে ফিরে যান।
এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মিজানুর রহমান জানান, খুব সকালে মুঠোফোনে খবর পান যে চুয়াডাঙ্গা বিএডিসিতে শ্রমিকরা আন্দোলন করছেন। তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ফোর্স পাঠানো হয় এবং ঘটনাস্থলেই বিষয়টি মীমাংসা করা হয়। তিনি আরও বলেন, “এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এদিকে খামারের সিনিয়র সহকারী পরিচালক মো. মাইনুল ইসলাম বলেন, শ্রমিকরা চুক্তিভিত্তিক এবং সরদারের মাধ্যমে কাজ পান। হাজিরা বাবদ টাকা সরাসরি সরদারদের কাছে প্রদান করা হয়। সরকারি নীতিমালা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে পরে জানাবেন বলে জানান।
স্থানীয়দের দাবি, বিএডিসিতে প্রায়ই শ্রমিক অসন্তোষ দেখা যায়। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এবং দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
Leave a Reply