চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার চিৎলা ইউনিয়নের কয়রাডাঙ্গা গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুজ্জামান নান্টু (৭৭) ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় কয়রাডাঙ্গা নান্টু স্টেডিয়ামে গার্ড অব অনার প্রদানের পর গ্রামের কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হবে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত দুই সপ্তাহ ধরে তিনি গুরুতর অসুস্থ ছিলেন। বুধবার সন্ধ্যায় অজু করতে যাওয়ার সময় হঠাৎ স্ট্রোকজনিত কারণে পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পান। স্বজনরা হাসপাতালে নেয়ার প্রস্তুতি নিলেও তার আগেই তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। মরহুম নুরুজ্জামান নান্টু কয়রাডাঙ্গা গ্রামের মরহুম সিরাজুল ইসলাম বিশ্বাসের ছেলে।
মরহুমের ভাতিজা ও চিৎলা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম বিপ্লব জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় কয়রাডাঙ্গা গ্রামে মরহুমের নিজ হাতে প্রতিষ্ঠিত ‘নান্টু স্টেডিয়ামে’ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করা হবে। এরপর জানাজা নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে। ব্যক্তিজীবনে তিনি এক কন্যা ও এক পুত্র সন্তানের জনক ছিলেন। নুরুজ্জামান নান্টু দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে চিৎলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়নে তার অবদান অনস্বীকার্য। ১৯৯৭ সালে ভালাইপুর মোড়ে তার প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠিত পানহাট আজ বিশাল ব্যবসা কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এছাড়া গোকুলখালী পশুর হাট, মাছের আড়ত চালু এবং তরুণ প্রজন্মের জন্য কয়রাডাঙ্গা নান্টু স্টেডিয়াম প্রতিষ্ঠা করে তিনি এলাকায় স্মরণীয় হয়ে আছেন।
তার মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুজ্জামান নান্টুর মৃত্যুতে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন গভীর শোক প্রকাশ করেছে। শোকবার্তায় নেতৃবৃন্দ বলেন, তার মৃত্যুতে দেশ একজন সাহসী বীর সন্তান ও জনদরদি অভিভাবককে হারালো।
Leave a Reply