চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার খাদিমপুর ইউনিয়নের বটিয়াপাড়া গ্রামে পৈত্রিক জমি নিয়ে তিন ভাইয়ের বিরোধ এখন চরম তুঙ্গে। ছোট ভাই বিপুল হোসেনকে অপহরণের অভিযোগ উঠলেও প্রতিপক্ষ দুই ভাইয়ের দাবি— এটি মামলা থেকে বাঁচতে সাজানো এক ‘অপহরণ নাটক’। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে দর্শনার হঠাৎপাড়া এলাকা থেকে বিপুলকে উদ্ধার করা হলেও পুরো ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বটিয়াপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুর সাত্তারের তিন ছেলে বাবুল (৫৫), বিপুল (৪৭) ও শিমুলের মধ্যে ২৭ বিঘা সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ। এই বিরোধের জেরে আদালতে মামলাও চলমান। বিপুলের অভিযোগ, গত ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে চুয়াডাঙ্গা পোস্ট অফিসের সামনে থেকে তাকে অপহরণ করা হয়। এরপর তাকে হাত-পা বেঁধে আটকে রেখে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। গত মঙ্গলবার রাতে পুলিশ তাকে দর্শনা থেকে উদ্ধার করে। বিপুলের দাবি, তার বড় ভাই বাবুল ও মেজ ভাই শিমুল তাকে মামলা তুলে নিতে নিয়মিত প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন এবং জমি দখলের চেষ্টা করছেন।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত বাবুল ও শিমুলের পক্ষ থেকে এই অপহরণের দাবিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করা হয়েছে। তাদের ঘনিষ্ঠজনদের অভিযোগ, বিপুল নিজেই আত্মগোপনে থেকে অপহরণের নাটক সাজিয়েছেন। তথ্যমতে, গত ৭ থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি বিপুল গোপনে ঢাকায় অবস্থান করে এই পরিকল্পনার ছক আঁকেন। এমনকি আত্মগোপনে থাকাকালীন তিনি মহাখালী এলাকায় এক নারীর বাসায় ছিলেন এবং ছেলের সাথে নিয়মিত মোবাইলে যোগাযোগ রাখতেন বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া চুয়াডাঙ্গা পোস্ট অফিস এলাকার ব্যবসায়ীরাও ওই রাতে কোনো অপহরণের ঘটনার সত্যতা পাননি বলে জানিয়েছেন। এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বানী ইসরাইল জানান, নিখোঁজ থাকার কয়েকদিন পর বিপুলকে দর্শনা থেকে উদ্ধার করে পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, দীর্ঘদিনের জমি সংক্রান্ত জটিলতার কারণেই পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে। চুয়াডাঙ্গা ও আলমডাঙ্গা জুড়ে এখন এই ‘অপহরণ না আত্মগোপন’ বিতর্ক নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
Leave a Reply