চুয়াডাঙ্গার দর্শনা পৌরসভার ঈশ্বরচন্দ্রপুরে রিপন (৩৫) নামে এক বিএনপি কর্মীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে রাতেই দর্শনা শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও থানা ঘেরাও করেছে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রবিবার সন্ধ্যায় ঈশ্বরচন্দ্রপুরের আব্দুল মান্নানের ছেলে রিপন মহল্লার বড় মসজিদে নামাজ পড়তে যাচ্ছিলেন। এসময় মসজিদের সামনে ওৎ পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা তার ওপর আচমকা হামলা চালায়। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে রিপনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। একপর্যায়ে তাকে মৃত ভেবে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় তারা। স্থানীয়রা মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতে তাকে রাজশাহী বা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়।
রিপনের পরিবারের অভিযোগ, এলাকার হাসেম (৫৬) ও খায়রুল কামড়িসহ তাদের সহযোগীরা পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড চালানোর চেষ্টা করেছে। দর্শনা পৌর বিএনপির প্রধান সমন্বয়ক হাবিবুর রহমান বুলেট বলেন, “রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই ইফতার শেষে মসজিদে যাওয়ার পথে রিপনকে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। আমরা এই জঘন্য হামলার তীব্র নিন্দা ও অবিলম্বে জড়িতদের গ্রেপ্তার দাবি করছি।”
এদিকে হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে রাত ৯টার দিকে দর্শনা পৌর বিএনপির অন্যতম সমন্বয়ক নূরুল ইসলাম মাস্টারের নেতৃত্বে শহরে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে দর্শনা থানা ঘেরাও করে। এসময় বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী হাসান জানান, “রিপন নামে একজনকে কুপিয়ে জখম করার ঘটনায় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন এবং মামলার প্রক্রিয়া চলছে। হামলাকারীদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।” শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং ঈশ্বরচন্দ্রপুর ও আশপাশের এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
Leave a Reply