খুলনার কয়রা উপজেলায় প্রথম স্বামীকে তালাক না দিয়েই ভুয়া নোটারি হলফনামার মাধ্যমে ফের বিয়ের অভিযোগ উঠেছে এক গৃহবধূর বিরুদ্ধে। উপজেলার গোবরা গ্রামের মো. আবু হানিফের স্ত্রী শারমিন আক্তার পলি এই জালিয়াতি করেছেন বলে অভিযোগ। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী স্বামী আইনি প্রতিকার ও নিরাপত্তার দাবিতে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি আবু হানিফ ও শারমিন আক্তার পলির বিয়ে হয়। বিয়ের পর সংসার চলাকালীন ২০২২ সালের ১৭ আগস্ট হানিফ এক সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন। হানিফের অভিযোগ, তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাকালে স্ত্রী পলি পরিবারের পরামর্শে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার নিয়ে বাবার বাড়ি চলে যান। সুস্থ হয়ে স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনতে একাধিকবার সালিশ-বৈঠক হলেও পলি ফিরতে অস্বীকার করেন।

পরবর্তীতে হানিফ জানতে পারেন, তাকে কোনো তালাক না দিয়েই ২০২৫ সালের ১৭ এপ্রিল শ্যামনগর উপজেলার জয়াখালী গ্রামের মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে পলির তৃতীয় বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। এই বিয়ের বৈধতা দেখাতে একটি ‘তালাক এফিডেভিট’ দাখিল করা হয়। তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, ওই নোটারি ও আইনজীবীর কোনো অস্তিত্ব খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতিতে নেই। জালিয়াতি জানাজানি হলে কয়রা ইউনিয়নের কাজী মোহা. ইউনুচ আলী পেছনের তারিখে একটি ভুয়া তালাকনামা তৈরি করে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী হানিফ বলেন, “আমাকে তালাক না দিয়েই ভুয়া কাগজে বিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রতিবাদ করায় কাজী আমাকে টাকা নিয়ে চুপ থাকতে বলেন এবং শ্বশুরবাড়ির লোকজন প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। আমি বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।” অভিযুক্ত কাজী মোহা. ইউনুচ আলী বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “বিষয়টি ভুল হয়ে গেছে। আমি বিয়ে না পড়ালে অন্য কোনো কাজী পড়াত। কয়রা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লৎফর রহমান জানান, এ বিষয়ে পরিষদে সালিশ ডাকা হলেও পলির পরিবার উপস্থিত হয়নি। ফলে হানিফের পক্ষে একটি সালিশনামা প্রদান করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।
Leave a Reply