মেহেরপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারককে লক্ষ্য করে বুধবার আদালত চলাকালীন পাথর ছুঁড়ে মারা ঘটনায় বিচারাঙ্গণে দেখা দেয় আতঙ্ক। নিক্ষিপ্ত পাথরটি বিচারকের সামনে মোটা কাঁচ ভেঙে ভেদ করে বিচারকের পাশে গিয়ে পড়ে। তৎক্ষণাৎ আদালত কক্ষের বাইরে প্রহরায় থাকা পুলিশ পাথর নিক্ষেপকারীকে আটক করে।
ঘটনাটি ঘটে বেলা ১২টার দিকে জেলা জজ আদালতে। বিচারিক কার্যক্রম চলাকালে হঠাৎ পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় মুহূর্তে থমকে যায় আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম। আতঙ্কে ছুটাছুটি শুরু করেন আইনজীবী, বিচারপ্রার্থী ও আদালত সংশ্লিষ্টরা। এই ঘটনায় আদালত প্রাঙ্গনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী আইনজীবী মেহেরপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মারুফ আহমেদ বিজন জানান, বিচার চলাকালে হঠাৎ বিকট শব্দে জানালার কাচ ভেঙে একটি পাথর এজলাস কক্ষের ভেতরে এসে পড়ে। পাথরটি আদালতের বাইরের বারান্দা থেকে সজোরে ছুঁড়ে মারা হয়। ঘটনায় এজলাসে উপস্থিত সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং বিচারিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। তৎক্ষণাৎ আদালতের বারান্দায় দায়িত্বরত কোর্ট পুলিশের সদস্যরা পাথর নিক্ষেপকারী শরীফকে হাতেনাতে আটক করা ফেলে। তিনি মেহেরপুর শহরের নতুন শেখপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং মৃত রেজাউল করিমের ছেলে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, আটক ব্যক্তিকে আইনজীবীদের উপস্থিতিতে বিচারকের সামনে হাজির করা হলে তিনি নিজেকে উগ্রবাদী দাবি করে স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য বলেন, চলমান বিচার ব্যবস্থা কোনও বিচার না। তিনি ইসলামের বাণী পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন। তাদের না পেয়ে আদালতে প্রবেশের অনুমতির চেষ্টা করেন। সেটাও ব্যার্থ হলে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে এজলাস লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করেন।
বিচারকের সামনে দেওয়া বক্তব্যে অভিযুক্ত আরও বলেন, ইসলামের সঠিক নিয়মে রাষ্ট্র পরিচালিত হচ্ছে না। রাষ্ট্র পরিচালনায় ইসলামী আদর্শ অনুসরণের কথা উল্লেখ করে একপর্যায়ে তিনি বলেন, আমি মরলে শহীদ হব। এরপর তিনি ধারাবাহিকভাবে ইসলামিক উগ্র চিন্তাধারার বক্তব্য দিতে থাকেন। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় বিচারকের নির্দেশে অভিযুক্তকে আদালতের হাজতখানায় পাঠানো হয়।
পরবর্তীতে দেহ তল্লাশি চালিয়ে তার কাছ থেকে একটি খাতা ও একাধিক কাগজ উদ্ধার করা হয়। এসব কাগজে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বক্তব্য সম্বলিত উস্কানিমূলক ও উগ্রবাদী লেখা পাওয়া গেছে। পুলিশ এসব আলামত জব্দ করেছে। এজলাস কক্ষের ভেতর থেকে নিক্ষিপ্ত পাথরটিও উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় আদালতের বেঞ্চ সহকারী মাসুদ রানা ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ উল্লেখ করে মেহেরপুর সদর থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন। মেহেরপুর সদর থানার ওসি হুমায়ুন কবির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘আদালতের এজলাসে পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে। অভিযুক্তের বক্তব্যের পাশাপাশি এমন কাজে আরও কেউ ছিল কিনা সেটা যাচাই করা হচ্ছে।’
এই ঘটনায় আদালত প্রাঙ্গনে দায়িত্বপ্রাপ্তদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা এবং ভবিষ্যতে বিচারক, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
Leave a Reply