1. online@cnbtvbd.com : বার্তা বিভাগ : বার্তা বিভাগ
  2. admin@cnbtvbd.com : admin :
শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ১১:৩৮ অপরাহ্ন

পরমাণু আলোচনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি খামেনির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১২৪ বার পঠিত

পরমাণু আলোচনার বিষয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী যখন সমঝোতার ‘মূলনীতি’তে পৌঁছানোর কথা বলছেন, ঠিক তখনই দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে পাল্টা তোপ দাগলেন এবং আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশাবাদ ব্যক্ত করলেন।

৮৬ বছর বয়সী খামেনি মঙ্গলবার বলেন, ট্রাম্প স্বীকার করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকেই ইরানের ধর্মীয় শাসনব্যবস্থাকে ক্ষমতাচ্যুত করার চেষ্টা করছে, কিন্তু ব্যর্থ হয়েছে।

খামেনি বলেন, “এটি একটি ভালো স্বীকারোক্তি। আপনারা এবারও তা করতে পারবেন না।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি মূলত ট্রাম্পের সেই বক্তব্যেরই পাল্টা জবাব দিলেন, যেখানে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছিলেন যে ইরানে সরকার পরিবর্তনই হবে “সবচেয়ে ভালো ঘটনা”।

খামেনি ধর্মীয় রূপক ব্যবহার করে বর্তমান পরিস্থিতিকে ১৩৫০ বছরেরও বেশি আগের শিয়া ইমামদের সংগ্রামের সঙ্গে তুলনা করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাথে অর্থবহ সম্পর্কের সম্ভাবনা নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, ধর্মীয় বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে ইরানি জাতি “আজকের আমেরিকার ক্ষমতায় থাকা দুর্নীতিবাজ নেতাদের কাছে আনুগত্য প্রকাশ করবে না।”

তিনি আরও বলেন, “তারা বলে, তোমাদের পারমাণবিক শক্তি নিয়ে আলোচনা করা হোক, আর সেই আলোচনার ফলাফল এমন হতে হবে যেন তোমাদের এই শক্তিই আর না থাকে।” তিনি যোগ করেন, যদি সত্যিই কোনো আলোচনা হয়, তবে তা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার মতো কোনো “বোকামিপূর্ণ” দাবির ওপর ভিত্তি করে হতে পারে না।

খামেনির এই মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পরেই জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনা শেষে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বিবৃতি দেন। আরাঘচি সাংবাদিকদের বলেন, “আমি বলতে পারি, গতবারের তুলনায় এবার আমাদের অত্যন্ত সিরিয়াস আলোচনা হয়েছে এবং একটি গঠনমূলক পরিবেশে আমরা দৃষ্টিভঙ্গি বিনিময় করেছি।” তিনি আরও বলেন, “ধারণাগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং আমরা কিছু চুক্তি ও মূলনীতিতে একমত হয়েছি। আমরা শেষ পর্যন্ত একটি খসড়া দলিল তৈরি করব… আমরা আশাবাদী যে এটি অর্জন করা সম্ভব।” মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় মাধ্যমের খবরে ইরানি প্রতিনিধি দল এই বার্তাই দিয়েছে যে, ওমানের মধ্যস্থতায় চলা এই পরোক্ষ আলোচনার বিষয়ে তেহরান “সিরিয়াস” এবং তারা ফলাফল দেখতে চায়—বিশেষ করে সেই কঠোর মার্কিন নিষেধাজ্ঞাগুলোর প্রত্যাহার, যা ২০১৮ সালে ট্রাম্পের পরমাণু চুক্তি থেকে সরে আসার পর থেকে আরোপিত হয়েছিল।

সুইজারল্যান্ডে ইউক্রেন ও রাশিয়ার সঙ্গে সমান্তরাল আলোচনা চালিয়ে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার প্রধান প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন।

উভয় দলই ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর বিন হামাদ আল-বুসাইদি এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসির সঙ্গে আলাদা বৈঠক করেছে। গ্রোসিকেই ভবিষ্যতে ইরানের সেই পারমাণবিক কেন্দ্রগুলো পরিদর্শনের নেতৃত্ব দিতে হবে, যেগুলো গত জুনে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে ১২ দিনের যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

‘আশাবাদী হওয়া কঠিন’

ওয়াশিংটন জোর দিয়ে বলছে, ইরানের অভ্যন্তরে কোনো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ চলতে পারবে না। তারা আরও বলেছে, ইরানকে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ হস্তান্তর করতে হবে (যা জুনে মার্কিন বিমান হামলার ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছে বলে ধারণা করা হয়) এবং তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করতে হবে। ইসরায়েলের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রও লেবানন, ইরাক, ইয়েমেন এবং ফিলিস্তিনে ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী বা “প্রতিরোধের অক্ষ” (Axis of Resistance)-এর প্রতি ইরানের সমর্থন বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে।

ইরান এই সমস্ত দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, এগুলো তাদের “রেড লাইন” বা সীমা অতিক্রম করে এবং দেশের অধিকার ও নিরাপত্তা ক্ষুণ্ন করে। এর পরিবর্তে, ইরানি দল ইউরেনিয়াম লঘু করা এবং যেকোনো চুক্তির সম্ভাব্য অর্থনৈতিক সুবিধায় যুক্তরাষ্ট্রকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে।

রবিবার ইরান চেম্বার অব কমার্সের নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠকে রাজনৈতিক বিষয়ক উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী হামিদ গনিবরি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনকে এমন সব খাতে চুক্তির প্রস্তাব দিতে হবে যেখানে “উচ্চ অর্থনৈতিক ফলন দ্রুত পাওয়া সম্ভব”। তিনি পরামর্শ দেন যে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে জ্বালানি বিক্রি করতে পারে, যৌথ তেল ও গ্যাসক্ষেত্র এবং খনিজ প্রকল্পে কাজ করতে পারে, এমনকি যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিমানও কিনতে পারে। তবে দুই পক্ষের বিপরীতমুখী অবস্থানের মধ্যে কীভাবে এমন চুক্তি সম্ভব, তা তিনি স্পষ্ট করেননি।

মঙ্গলবার জেনেভায় তিন ঘণ্টার সামান্য বেশি সময় চলা পরোক্ষ আলোচনা শেষ হওয়ার পর ইরানের মুদ্রা রিয়ালের মান কিছুটা কমে যায়। মঙ্গলবার এক মার্কিন ডলারের বিনিময় মূল্য ছিল প্রায় ১৬ লাখ ৩০ হাজার রিয়াল, যা গত মাসে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও যুদ্ধের হুমকির পর রেকর্ড পতনের কাছাকাছি।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের পরিচালক আলী ভায়েজ আল জাজিরাকে বলেন, “এত দ্রুত শেষ হওয়া এই আলোচনা নিয়ে আশাবাদী হওয়া কঠিন। এগুলো অত্যন্ত জটিল বিষয়। মনে রাখবেন, ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি করতে আড়াই বছর সময় লেগেছিল।” তিনি আরও বলেন, “যদি এত দ্রুত আলোচনা শেষ হয়ে যায়, তবে এর অর্থ—হয় আলোচকদের চুক্তি করার মতো ধৈর্য নেই, অথবা দুই পক্ষের ব্যবধান এত বেশি যে তা পূরণ করা অসম্ভব।” হরমুজ প্রণালী বন্ধের পদক্ষেপ

কথার লড়াইয়ের বাইরেও মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি বলছে, দুই পক্ষ চুক্তির খুব একটা কাছাকাছি নেই। যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে সৈন্য ও সামরিক সরঞ্জাম জড়ো করা অব্যাহত রেখেছে; পথে রয়েছে দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরী এবং সংঘাতের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য ইরানি মিসাইল ও ড্রোন হামলা ঠেকাতে একাধিক দেশে আরও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করা হচ্ছে।

ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালীতে সামরিক মহড়া চালানোর সময় খামেনি ইঙ্গিত দেন যে, ইরানের কাছে এমন অস্ত্র রয়েছে যা বিমানবাহী রণতরী “ডুবিয়ে দিতে” পারে এবং বিশ্বের বৃহত্তম সামরিক বাহিনীকে “মাটিতে নামিয়ে আনতে” পারে।

আইআরজিসি নৌবাহিনীর প্রধান আলিরেজা তাংসিরি একটি যুদ্ধজাহাজের ডেক থেকে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, ইরানি নেতারা নির্দেশ দিলে তার বাহিনী সেই কৌশলগত জলপথটি বন্ধ করে দিতে প্রস্তুত, যার মধ্য দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহ হয়ে থাকে।

আইআরজিসি জানিয়েছে, মঙ্গলবার তাদের নৌ মহড়ার কারণে প্রণালীটি কয়েক ঘণ্টার জন্য বন্ধ ছিল। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে যুদ্ধজাহাজ এবং উপকূল থেকে সাগরে লক্ষ্যবস্তুতে মিসাইল নিক্ষেপের দৃশ্য দেখানো হয়। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সেইসব ‘ঘোস্ট ফ্লিট’ বা গোপন জাহাজের ওপর আঘাত হানার বিষয়ে মনোযোগ দিচ্ছে, যেগুলো ওয়াশিংটনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মূলত চীনে তেল বিক্রি করে থাকে। ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলোর ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকিও দিয়েছে।

মঙ্গলবার ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলি লারিজানি রাশিয়ার জ্বালানিমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ইরানি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, তেহরানে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই পক্ষ নতুন জ্বালানি চুক্তি নিয়ে আলোচনা করেছে। ইরানি সংবাদপত্রগুলো জেনেভা আলোচনা এবং আইআরজিসির মহড়া নিয়ে ব্যাপক খবর প্রকাশ করলেও কেউই অদূর ভবিষ্যতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কোনো বিশ্বাসযোগ্য চুক্তির সম্ভাবনা দেখছে না।

তেহরান মিউনিসিপ্যালিটির দৈনিক হামশাহরির শিরোনাম ছিল “জেনেভা থেকে হরমুজ প্রণালী পর্যন্ত শক্তি”, অন্যদিকে সংস্কারবাদী পত্রিকা শারঘ লিখেছে, “ইরান ভেনিজুয়েলা নয়।” রক্ষণশীল পত্রিকা ফারহিখতেগান দাবি করেছে, ইরানি আলোচকরা জেনেভায় “হাত ভর্তি” উদ্যোগ নিয়ে গেছে। আর কট্টরপন্থী ওয়াতান-ই এমরোজ লিখেছে হামলার ক্ষেত্রে ইরানের সামরিক প্রতিশোধ নিয়ে “ট্রাম্পের ভয়” এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যকার “ভাঙা জোট” নিয়ে।

সূত্র : আল জাজিরা

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর
All rights reserved © 2026
Design By Raytahost