টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে নিজেদের প্রস্তুতির বার্তা জোরালোভাবেই দিয়ে রাখল ইংল্যান্ড। পাল্লেকেলেতে শুক্রবার প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন (ডিএলএস) পদ্ধতিতে শ্রীলঙ্কাকে ১১ রানে হারিয়ে তিন ম্যাচ সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে তারা। ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন স্যাম কারান। হ্যাটট্রিকসহ তাঁর আঘাতে ১৬.২ ওভারে ১৩৩ রানে গুটিয়ে যায় শ্রীলঙ্কা।
ব্যাট হাতে ইংল্যান্ডকে ভালো শুরু এনে দেন ওপেনার ফিল সল্ট। বিশ্বের দুই নম্বর র্যাঙ্কিংধারী এই টি-টোয়েন্টি ব্যাটার ৩৫ বলে করেন ৪৬ রান। বিশ্বকাপের আগে এই সিরিজকে প্রস্তুতির মঞ্চ হিসেবে দেখছে ইংল্যান্ড। ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক বলেন, “আজ আমাদের পরিকল্পনার বাস্তবায়ন ভালো ছিল। আমরা যে অগ্রগতি করেছি, তাতে সন্তুষ্ট। সবকিছু বিশ্বকাপের দিকে সুন্দরভাবে এগিয়ে নেওয়াই লক্ষ্য। স্যাম কারান অসাধারণ ছিল। শুরুটা কঠিন হলেও দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে।”
শুরুটা অবশ্য দারুণ করেছিল শ্রীলঙ্কা। ৭ ওভারে ১ উইকেটে তুলে ফেলে ৭৬ রান। তবে স্পিন আক্রমণ নামতেই গতি হারায় স্বাগতিকরা। লেগস্পিনার আদিল রশিদ নেন তিন উইকেট, হন ম্যাচসেরা। এরপর কারানের হ্যাটট্রিকে দ্রুত ভেঙে পড়ে লঙ্কান ইনিংস। প্রথমে দাসুন শানাকাকে মিড-অফে ক্যাচ করান তিনি। পরের বলে মাহেশ থিকশানা লং-অনে ধরা পড়েন। হ্যাটট্রিক বলে ভেতরে ঢোকা ফুল লেংথ ডেলিভারিতে বোল্ড হন ম্যাথিশা পাথিরানা।
শেষ জুটিতে মাত্র ৪ রান যোগ হতেই জেমি ওভারটনের বলে আউট হন হাসারাঙ্গা (১৪)। ১২৯/৬ থেকে মাত্র পাঁচ বলে ১৩৩ অলআউটে পরিণত হয় শ্রীলঙ্কা।
জবাবে আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং করেন সল্ট। টম ব্যান্টন ১৫ বলে ২৯ রানের ঝোড়ো ইনিংসে চাপ কমান। শ্রীলঙ্কার ফিল্ডিং ছিল হতাশাজনক- সহজ দুই ক্যাচ ছেড়ে দেয় তারা। তবে স্কোরবোর্ডে পর্যাপ্ত রান না থাকায় ইংল্যান্ডের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপকে চাপে ফেলতে পারেনি। শেষ দুই ওভারে ইংল্যান্ডের প্রয়োজন ছিল মাত্র ৯ রান, হাতে ৬ উইকেট। এর মধ্যেই বৃষ্টি নামলে ডিএলএস হিসেবে এগিয়ে থাকায় ইংল্যান্ডকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। বৃষ্টির কারণে ম্যাচটি আগেই কমিয়ে আনা হয়েছিল ১৭ ওভারে। শ্রীলঙ্কা অধিনায়ক শানাকা বলেন, “মাঝের সময়ে আমরা যেভাবে পরিস্থিতি সামলেছি, তাতে খুব হতাশ। সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আরও ভালো হতে হবে। সামর্থ্য আছে, কিন্তু মাঠে তা দেখাতে পারছি না।” রবিবার একই ভেন্যুতে হবে দ্বিতীয় ম্যাচ, সিরিজের শেষ ম্যাচ মঙ্গলবার।
Leave a Reply