চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে সেনা হেফাজতে থাকা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান ডাবলুর (৫২) মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। পরে মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সেনাবাহিনীর একটি দল জীবননগর পৌর এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থিত শামসুজ্জামান ডাবলুর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ‘হাফিজা ফার্মেসি’ থেকে তাঁকে আটক করা হয়। এরপর তাঁকে পাশের একটি কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাঁকে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ডাবলুর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে রাত থেকেই জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা। তারা জীবননগর-চুয়াডাঙ্গা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে ও গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ সৃষ্টি করেন। এতে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে রাত দুইটার দিকে ঘটনাস্থলে যান চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সভাপতি ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান। পরে মঙ্গলবার সকালে তিনি আবারও ঘটনাস্থলে এসে নেতা-কর্মীদের শান্ত করেন।
মঙ্গলবার সকালে জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আল আমীনের উপস্থিতিতে জীবননগর থানার পুলিশ শামসুজ্জামান ডাবলুর মরদেহের সুরতহাল করে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বেলা ১১টার দিকে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছান চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের বিএনপি প্রার্থী শরীফুজ্জামান শরীফ। পরে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামাল হোসেনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সেখানে যান।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের আশ্বাস দেওয়া হলে বেলা দেড়টার দিকে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়।
এ ঘটনায় শামসুজ্জামান ডাবলুর স্ত্রী জেসমিন আক্তার অভিযোগ করে বলেন, তাঁর স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তিনি এ ঘটনার সঠিক বিচার দাবি করেন। ডাবলুর মেয়েও বাবার মৃত্যুর বিচার চান।
চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, বিষয়টি নিয়ে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই ঘটনার তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, তদন্তে যদি প্রমাণ হয় এটি হত্যাকাণ্ড, তাহলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগ নিশ্চিত করা হবে।
Leave a Reply