1. online@cnbtvbd.com : বার্তা বিভাগ : বার্তা বিভাগ
  2. admin@cnbtvbd.com : admin :
রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬, ০৯:৩৯ পূর্বাহ্ন

যুক্তরাজ্যে অবৈধ অভিবাসীবিরোধী অভিযানে ৫ বাংলাদেশি গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১২৬ বার পঠিত

যুক্তরাজ্যের হেরেফোর্ডশায়ারে অনিয়মিত অভিবাসনের বিরুদ্ধে পরিচালিত এক অভিযানে মুখোমুখি দুইটি রেস্তোরাঁ থেকে পাঁচ জনকে গ্রেফতার করেছে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ। গ্রেফতার হওয়া পাঁচ জনই বাংলাদেশি নাগরিক।

ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হেরেফোর্ডের সেন্ট ওউন স্ট্রিটের ‘জলসাগর’ এবং ‘টেস্ট অব রাজ’ নামের রেস্তোরাঁয় গত ১১ ডিসেম্বর এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানের নেতৃত্বে ছিল দেশটির ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট-এর কর্মকর্তারা। রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। জানা গেছে, জলসাগর রেস্তোরাঁ থেকে একজন বাংলাদেশি পুরুষকে গ্রেফতার করা হয়। অভিবাসন সম্পর্কিত অপরাধে জড়িত সন্দেহে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর ঠিক পাশে থাকা টেস্ট অব রাজ নামের রেস্তোরাঁ থেকে আরো চার জন বাংলাদেশি পুরুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুই জনের ভিসার মেয়াদ ফুরিয়ে গেছে। কিন্তু তারপরও তারা যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছিলেন। অন্য দুই বাংলাদেশিকে জামিনের শর্ত ভঙ্গ করার কারণে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে, কোন মামলায়, কী শর্তে তারা জামিনে মুক্ত ছিলেন, তা নিয়ে কোনো তথ্য জানা যায়নি।

এই দুটি রেস্তোরাঁর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট নথি সিভিল পেনাল্টি কমপ্লায়েন্স টিমের কাছে পাঠিয়েছে হোম অফিস। এর আগেও অনিয়মিত অভিবাসীদের কাজে নিয়োগ দেয়ার কারণে এই দুটি রেস্তোরাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছিল সরকার। 

ওই দুইটি রেস্তোরাঁর কর্তৃপক্ষের মন্তব্য জানতে যোগাযোগ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। তবে, এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, ‘অনিয়মিত অভিবাসীদের কাজের সুযোগ করে দেয়ার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সৎ নিয়োগদাতারা। কারণ, এর ফলে স্থানীয় মজুরি কমে যায়। এর মধ্য দিয়ে সংগঠিত অভিবাসন অপরাধকেও উসকে দেয়া হয়। এই সরকার তা সহ্য করবে না।’ তিনি আরও বলেছেন, লেবার পার্টির সরকার ‘ক্ষমতায় আসার পর থেকে সারা দেশে অনিয়মিত অভিবাসনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ বেড়েছে। অবৈধভাবে কাজ করার অভিযোগে গ্রেফতারের সংখ্যা আগের তুলনায় ৬৩ শতাংশ বেড়েছে।’

আগামী বছর ব্রিটিশ সরকার এই পদক্ষেপ আরো জোরদার করবে বলেও জানিয়েছেন সরকারের এই মুখপাত্র।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অভিবাসন ব্রিটেনের রাজনীতিতে প্রধান আলোচ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। নানা উদ্যোগের পরও ইংলিশ চ্যানেলজুড়ে থামানো যাচ্ছে অভিবাসীবাহী ছোট নৌকা। ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ৪০ হাজার ৬৫২ জন অভিবাসী ছোট নৌকায় ব্রিটিশ উপকূলে পৌঁছেছেন। এই সংখ্যা ২০২৪ সালের মোট আগমনকেও ছাড়িয়ে গেছে।

এ কারণে ভূমিধস বিজয় নিয়ে ক্ষমতায় আসা লেবার পার্টির সরকার প্রচণ্ড চাপের মুখে রয়েছে। কারণ, দিন দিন অভিবাসনবিরোধী রিফর্ম ইউকে পার্টির প্রতি জনসমর্থন বেড়েই চলেছে। আগামী মে মাসের স্থানীয় নির্বাচনের আগে জনমত জরিপে এগিয়ে রয়েছে রিফর্ম ইউকে পার্টি।

এমন প্রেক্ষাপটে ব্রিটেনের আশ্রয়নীতিকে কঠোর করার লক্ষ্যে গত নভেম্বরে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ অভিবাসন ইস্যুতে সংস্কার প্যাকেজের ঘোষণা করেছেন। তারই ধারাবাহিকতায় অনিয়মিত অভিবাসীদের ফেরত নেওয়ার ক্ষেত্রে অসহযোগিতার কারণে সেন্ট্রাল আফ্রিকার দেশ গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের (ডিআরসি) নাগরিকদের জন্য ভিসা নীতি কঠোর করেছে যুক্তরাজ্য।

গত শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই ইস্যুতে ‘সহযোগিতা দ্রুত’ উন্নত না হলে আরো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এমনকি ভিসা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটি।  

পরদিন, রোববার কঙ্গো জানিয়েছে, বিষয়টি সমাধানের জন্য তারা ব্রিটেনের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে।

এই বিধিনিষেধের আরোপের অর্থ হলো, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের ভিআইপি ও নীতি নির্ধারকেরাও আর যুক্তরাজ্যের ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা পাবেন না। এমনকি দেশটির সাধারণ নাগরিকদের জন্য ফাস্ট-ট্র্যাক বা দ্রুত ভিসার ইস্যু করার বিধানটিও বাতিল করা হয়েছে।

ভিসা নীতি কঠোর করার কথা অবশ্য আগেই জানিয়েছিল ব্রিটিশ সরকার। নভেম্বরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ আফ্রিকার তিন দেশ—ডিআরসি, অ্যাঙ্গোলা ও নামিবিয়াকে সতর্ক করে বলেছিলেন, অনিয়মিত অভিবাসীদের ফেরত না নিলে ভিসা নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে।

যুক্তরাজ্যের হুঁশিয়ারির পর অ্যাঙ্গোলা ও নামিবিয়া তাদের নাগরিকদের জন্য প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া উন্নত করতে এবং ‘অনিয়মিত অভিবাসী ও অপরাধীদের’ ফেরত নিতে সম্মত হয়েছে। ফলে, এই দেশ দুটি ভিসা সম্পর্কিত এমন বিধিনিষেধের মুখোমুখি হচ্ছে না বলেও জানিয়েছে ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর
All rights reserved © 2026
Design By Raytahost