ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদের শেষ অবস্থান কোথায়, সে বিষয়ে কোনো তথ্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে নেই বলে জানিয়েছেন পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অপরাধ ও অপস) খন্দকার রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ফয়সাল করিম বাংলাদেশের সীমান্ত পার হয়ে গেছেন কি না, নাকি দেশে আছেন, এ বিষয়েও সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই।
রোববার বিকেলে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত আইজিপি রফিকুল ইসলাম। অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২ ও দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অগ্রগতি জানাতে বিকেল সাড়ে পাঁচটায় এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সাধারণত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এ ধরনের সংবাদ সম্মেলন করে থাকেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তবে আজকের সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, স্বরাষ্ট্রসচিব নাসিমুল গনি- দুজনের কেউই উপস্থিত ছিলেন না।
পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক রফিকুল ইসলাম ছাড়াও পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিকেশনস) এ এইচ এম শাহাদাৎ হোসাইন, র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী, ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) শফিকুল ইসলাম, বিজিবি ময়মনসিংহ সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মো. মোস্তাফিজুর রহমান এবং ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) শফিকুল ইসলাম বলেন, ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামির বিষয়ে তাঁদের কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। বিভিন্ন জায়গা থেকে নানা ধরনের তথ্য আসছে। তবে আসামি দেশে আছেন নাকি দেশের বাইরে চলে গেছেন, এ বিষয়ে তথ্য নেই। এ হত্যাকাণ্ডের কারণ কী ছিল, জানতে চাইলে তিনি বলেন, তদন্ত চলছে, এখনো জানা যায়নি। এ হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ব্যক্তিগত কারণ নয়, রাজনৈতিক কারণ হতে পারে।
ফয়সাল করিমকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর বিভিন্ন তথ্য ছড়ানোর বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, তারা সেসব তথ্য যাচাই করছেন। যারা গুজব ছড়াচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি মাথায় রয়েছে। আসামির রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, সে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের মুখ ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি ঢাকা–৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছিলেন। ১২ ডিসেম্বর মতিঝিল এলাকায় প্রচার চালিয়ে ফেরার পথে পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট সড়কে মোটরসাইকেল থেকে তাকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। ছয় দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে মারা যান তিনি।
ওসমান হাদিকে গুলি করার ঘটনায় ফয়সাল করিম মাসুদ নামে ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতাকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
Leave a Reply