ভারতের রাজধানী দিল্লির আয়ানগরে ৫২ বছর বয়সি এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। দীর্ঘদিন ধরে চলমান দুই পরিবারের বিরোধের বলি হন তিনি। পুলিশের তদন্তে এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
পুলিশের বরাতে এনডিটিভি জানায়, নিহত রতন লোহিয়াকে মুহুর্মুহু গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়। তার শরীর থেকে মোট ৬৯টি গুলি বের করা হয়েছে। পুলিশ এই হত্যাকাণ্ডে ‘কন্ট্রাক্ট কিলিং’-এর সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে সূত্র মতে, রতন লোহিয়াকে খুন করার জন্য ভারতের বাইরে অবস্থানরত গ্যাংস্টারদের চুক্তি দেওয়া হয়েছিল।
দিল্লি পুলিশের তথ্যমতে, গত ৩০ নভেম্বর ভোরের দিকে কাজে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রতন লোহিয়া বাড়ির বাইরে বেরোনোর সঙ্গে সঙ্গেই কয়েকজন ব্যক্তি তাকে ঘিরে ধরে এবং মুহুর্মুহু গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই রতনের মৃত্যু হয়। পুলিশ পরে ঘটনাস্থল থেকে ফাঁকা কার্তুজ এবং তিনটি তাজা গুলি উদ্ধার করে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, তিনজন হামলাকারী আয়ানগরের সানডে মার্কেটের কাছে একটি গাড়িতে বসে রতনের জন্য অপেক্ষা করছিল। গাড়িটি ছিল কালো রঙের নিশান ম্যাগনাইট। ফুটেজ বিশ্লেষণে আরও জানা গেছে, গাড়িটির নম্বর প্লেট ইচ্ছাকৃতভাবে খুলে ফেলা হয়েছিল।
রতনের পরিবার অভিযোগ করেছে, রামবীর লোহিয়া ও তার আত্মীয়রা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। রামবীরের ছেলে অরুণের মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে এ হত্যাকাণ্ড চালানো হয়। গত ১৫ মে অরুণ নিজের গাড়িতে করে বাড়ি ফেরার সময় দুই মোটরসাইকেল আরোহী তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়, এতে অরুণের মৃত্যু হয়। অরুণের মৃত্যুর ঘটনায় রতনের বড় ছেলে দীপককে গ্রেফতার করা হয়েছিল।
রতনের মেয়ে এএনআইকে জানান, রামবীর দীর্ঘদিন ধরে তার বাবাকে হুমকি দিয়ে আসছিল। তার বাবার সঙ্গে অন্য কারও ব্যক্তিগত শত্রুতা ছিল না।
Leave a Reply